“ভারতের বিশ্বকাপ ট্রফিটাও কি তবে বিচারাধীন?” রিচা ঘোষের নাম বাদ যাওয়ায় নির্বাচন কমিশনকে তুলোধনা অভিষেকের!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার তৃণমূল ভবনে এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, লক্ষ লক্ষ জীবিত ভোটারের নাম ষড়যন্ত্র করে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন তালিকায় ফেলে রাখা হয়েছে। এমনকি সচেতনভাবে অনেককে ‘মৃত’ হিসেবেও দেখানো হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
অভিষেক তাঁর বক্তব্যে তীব্র শ্লেষ মিশিয়ে বলেন, “বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে কমিশন। এই তালিকায় সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি দেশের গর্ব নোবেলজয়ী বা আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি।” উদাহরণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন ভারতের মহিলা ক্রিকেট দলের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ী শিলিগুড়ির রিচা ঘোষের নাম। অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, “বাংলার মেয়ে রিচা ঘোষের নাম যদি তালিকায় বিচারাধীন রাখা হয়, তবে কি ভারতের বিশ্বকাপ ট্রফিটাও আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন? নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনের নামেও শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোবেলজয়ীকে নোটিশ গেলে নোবেল প্রাইজও কি এখন ঝুলে থাকবে?”
ক্রিকেটার মহম্মদ শামির নামও এই তালিকায় থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে অভিষেক দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি এবং নির্বাচন কমিশন সম্মিলিতভাবে বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যাদের নাম ষড়যন্ত্র করে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অধিকার ফেরাতে তৃণমূল কংগ্রেস শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়বে। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানো যায়, কিন্তু জনতাকে আটকানো যায় না।” নির্বাচনের মুখে অভিষেকের এই ‘বিশ্বকাপ’ ও ‘নোবেল’ খোঁচা যে দিল্লির মসনদে বড়সড় কম্পন সৃষ্টি করবে, তা বলাই বাহুল্য।