“রথ চালিয়ে মানুষের ক্ষোভ চাপা দেওয়া যাবে না!” বঙ্গ বিজেপিকে তুলোধনা কল্যাণের!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনীতিতে পারদ চড়ালেন তৃণমূলের দাপুটে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ এবং রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া—এই দুই ইস্যুতে একযোগে কেন্দ্র ও বিজেপিকে ধুয়ে দিলেন তিনি। শ্রীরামপুরের সাংসদ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, রথযাত্রা বা সাজানো রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বাংলার মানুষের আসল ক্ষোভকে ধামাচাপা দেওয়া সম্ভব নয়।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণের মূল নিশানায় ছিল ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি। তিনি অভিযোগ করেন, সুপরিকল্পিতভাবে বহু প্রবীণ নাগরিক এবং সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, “১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ করে বাংলার মানুষের পেটে লাথি মারা হয়েছে। আর এখন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর আঘাত করা হচ্ছে।” এই লড়াই যে তিনি শেষ পর্যন্ত লড়বেন, তার ইঙ্গিত দিয়ে সাংসদ জানান, যাদের নাম বাদ গেছে তাদের ফর্ম-৬ পূরণ করতে হবে এবং তৃণমূল কংগ্রেস সমস্ত নথি সংগ্রহ করে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে।

নির্বাচনের আগে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়েও বিজেপিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। চেনা মেজাজে কল্যাণ বলেন, “কেন্দ্রীয় বাহিনী আসুক, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। ওদের কাছে অনেক কিছু থাকতে পারে, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই রাজ্যের জনতা আছে।” বিচারব্যবস্থার কাছেও তাঁর আবেদন, ভোটারদের অধিকার রক্ষার বিষয়টিতে যেন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৭-১০ দিনের দেরিও লক্ষ লক্ষ মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই বিজেপি বনাম তৃণমূলের এই বাকযুদ্ধ রাজ্য রাজনীতির ময়দানকে উত্তপ্ত করে তুলেছে।