আইআইটি খড়গপুরের বিস্ফোরক রিপোর্ট! রেশনের চালের গুণমান নিয়ে সংশয়, বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

প্রধানমন্ত্রী গরীব কল্যাণ অন্ন যোজনা (PMGKAY) সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পের অধীনে সরবরাহ করা চালে পুষ্টিগুণ বা ‘ফোর্টিফিকেশন’ যোগ করার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করল কেন্দ্র। মূলত আইআইটি খড়গপুরের (IIT Kharagpur) একটি সাম্প্রতিক গবেষণার রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংরক্ষণের ফলে চালের পুষ্টিগুণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ।

গবেষণায় কী উঠে এল? আইআইটি খড়গপুরের গবেষকরা বিভিন্ন কৃষি-জলবায়ু অঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ‘ফোর্টিফাইড রাইস কার্নেল’ (FRK) এবং ‘ফোর্টিফাইড রাইস’ (FR)-এর শেলফ লাইফ বা স্থায়িত্ব পরীক্ষা করেছিলেন। রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, অতিরিক্ত আর্দ্রতা, তাপমাত্রা এবং প্যাকেজিংয়ের ত্রুটির কারণে দীর্ঘক্ষণ মজুত রাখলে এই বিশেষ চালের গুণমান ও পুষ্টি দ্রুত হ্রাস পায়। এমনকি পরিবহণের সময় ঘর্ষণেও এর কার্যকারিতা কমে যাওয়ার প্রমাণ মিলেছে।

মজুত ও পুষ্টির সংকট: সরকারি গুদামগুলিতে রেশনের চাল প্রায় দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত মজুত রাখা হয়। প্রধানমন্ত্রী গরীব কল্যাণ অন্ন যোজনায় বছরে প্রায় ৩৭.২ মিলিয়ন টন চালের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে সরকারের হাতে ২০২৫-২৬ খরিফ মরশুমের ফসল মিলিয়ে প্রায় ৬৭.৪ মিলিয়ন টন চাল মজুত রয়েছে। এত বিশাল পরিমাণ চাল দীর্ঘ সময় গুদামে পড়ে থাকলে ফোর্টিফাইড চালের আসল উদ্দেশ্যই সফল হবে না বলে মনে করছে খাদ্য মন্ত্রক।

রেশনের পরিমাণে কি প্রভাব পড়বে? খাদ্য মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, চালের ‘সুরক্ষামূলক পুষ্টি’ যোগ করার প্রক্রিয়া বন্ধ থাকলেও সাধারণ মানুষের প্রাপ্য রেশনের পরিমাণে কোনো ঘাটতি হবে না। সরকারি রেশন দোকান, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বা স্কুলের মিড-ডে মিলের চাল সরবরাহ আগের মতোই স্বাভাবিক থাকবে। পুষ্টি মেশানোর আরও উন্নত এবং দক্ষ পদ্ধতি উদ্ভাবিত না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।