৭ জানুয়ারি থেকে তালা ঝুলেছে আধার আপডেট কাউন্টারে! বারুইপুর পোস্ট অফিসের পোস্টারে শোরগোল

দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহকুমা শহর বারুইপুর। অথচ সেই শহরের প্রধান ডাকঘরেই এখন হয়রানির একশেষ! আধার কার্ড আপডেট থেকে শুরু করে নতুন সংশোধন— সব কাজই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে বারুইপুর সাব-ডিভিশনাল মেইন পোস্ট অফিসে। এর ফলে তীব্র ক্ষোভ দানা বাঁধছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

কেন বন্ধ পরিষেবা? ডাকঘর কর্তৃপক্ষের তরফে অফিসের দেওয়ালে একটি পোস্টার সেঁটে দেওয়া হয়েছে। যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তীব্র কর্মী সংকটের কারণেই আপাতত আধার সংক্রান্ত কোনো কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই বিষয়ে বারুইপুর প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, “পোস্টারে যা লেখা আছে, সেটাই আসল সমস্যা। এর বাইরে বাড়তি কিছু বলার নেই।”

দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের ভোগান্তি: বারুইপুর প্রধান ডাকঘরের ওপর নির্ভরশীল মহকুমার এক বিশাল অংশের বাসিন্দা। সুন্দরবনের মৈপীঠ থেকে শুরু করে কুলতলি— মাইলের পর মাইল পথ পেরিয়ে মানুষ এখানে আসেন আধার কার্ডের কাজ সারতে। কিন্তু ৭ জানুয়ারি থেকে পরিষেবা বন্ধ থাকায় নিরাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে তাঁদের। কুলতলি থেকে আসা গ্রাহক রমেন হালদার ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “একটি প্রধান ডাকঘরে যদি এই অবস্থা হয়, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? কবে সমস্যার সমাধান হবে, তাও কেউ জানে না।”

ব্যাঙ্ক ও বিএসএনএলেও একই দশা: শুধুমাত্র পোস্ট অফিস নয়, আধার বিভ্রাট ছড়িয়েছে শহরের অন্যত্রও। স্থানীয় কিছু ব্যাঙ্ক এবং বিএসএনএল (BSNL) টেলিফোন এক্সচেঞ্জেও আধার কার্ডের কাজ বন্ধ রয়েছে। কোথাও কর্মী নেই, আবার কোথাও কম্পিউটারে লিঙ্কের সমস্যা। গ্রাহকদের অভিযোগ, বিএসএনএল কেন্দ্রে সপ্তাহে মাত্র দু’দিন কাজ হওয়ার কথা থাকলেও সার্ভার ডাউনের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ফিরে যেতে হচ্ছে।

মার্চ পর্যন্ত মিলবে না নতুন তারিখ: ডাকঘর সূত্রে খবর, যাদের আগে থেকে সময় (Appointment) দেওয়া ছিল, তাঁদেরও আরও ১-২ মাস পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত নতুন করে আধার কার্ডের জন্য কোনো তারিখ বা স্লট দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আধার কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথির কাজ এভাবে থমকে যাওয়ায় সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সুন্দরবন এলাকার কয়েক হাজার প্রান্তিক মানুষ। কবে কাটবে এই অচলাবস্থা? উত্তর নেই ডাকঘর কর্তৃপক্ষের কাছে।