‘শেষে আপনিও…’, কোয়েল TMC প্রার্থী হতেই কি বলছেন অভিনেত্রীর ভক্তরা?

টলিউডের ‘মিষ্টি মেয়ে’ হিসেবেই গত দু’দশক ধরে বাঙালির ড্রয়িংরুমে রাজত্ব করেছেন তিনি। বিতর্ক থেকে শতহস্ত দূরে থাকা সেই কোয়েল মল্লিকই এখন টলিপাড়ার সবথেকে চর্চিত নাম। তবে কোনো সিনেমার চিত্রনাট্য নয়, কোয়েলের জীবনের নতুন মোড় এখন ‘রাজনীতি’। তৃণমূলের রাজ্যসভা প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা হতেই কার্যত দু’ভাগে বিভক্ত নেটপাড়া।

চমক না কি প্রত্যাশিত পদক্ষেপ?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত স্নেহভাজন কোয়েল এবং তাঁর বাবা বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক বরাবরই শাসকদলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। কিছুদিন আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় খোদ রঞ্জিত মল্লিকের ভবানীপুরের বাড়িতে গিয়ে দেখা করেছিলেন। তখনই জল্পনা দানা বেঁধেছিল। অবশেষে রাজ্যসভার টিকিট পাওয়ার মধ্য দিয়ে সেই জল্পনাতেই শিলমোহর পড়ল। কোয়েল ভক্তদের একাংশের দাবি, পর্দার ‘মিতিন মাসি’ কোনো লড়াই ছাড়াই সোজা সাংসদ হতে চলায় তাঁরা হতাশ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলের বন্যা

সম্প্রতি কলকাতা পুলিশের ‘তেজস্বিনী’ ওয়ার্কশপে উপস্থিত হয়েছিলেন কোয়েল। সেই ছবি পোস্ট করতেই ধেয়ে আসে নেটিজেনদের কটাক্ষ। নায়িকার ফেসবুক পেজে জমা পড়েছে হাজার হাজার ক্ষোভভরা মন্তব্য:

  • কেউ লিখেছেন, “কোয়েল, আপনাকে বাকিদের চেয়ে আলাদা ভাবতাম… শেষে আপনিও চটি চাটতে শুরু করলেন?”

  • অন্য এক ভক্তের আক্ষেপ, “হোলির আগেই আসল রঙটা দেখিয়ে দিলেন। আজ থেকে আর আপনার সিনেমা দেখব না।”

  • আবার কারো কটাক্ষ, “ভাইপো বাড়ি গিয়ে টিকিট দিয়ে এল, তাই তো রঞ্জিত বাবুর মুখে এতো হাসি!”

কেরিয়ার বনাম রাজনীতি: নতুন চ্যালেঞ্জ

গত ২২ বছরের কেরিয়ারে কোয়েলকে কখনও কোনো রাজনৈতিক মিছিলে সেভাবে দেখা যায়নি। ব্যক্তিগত জীবন, দুই সন্তান এবং অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন তিনি। কিন্তু রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার পর তাঁর কাঁধে এখন বড় দায়িত্ব। একদিকে সংসদ ভবন, অন্যদিকে শুটিং ফ্লোর— কোয়েল কীভাবে এই ভারসাম্য রক্ষা করবেন, তা নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে।

মল্লিক বাড়িতে রাজনীতির রঙ

একসময়ের কলকাতার শেরিফ রঞ্জিত মল্লিকের মেয়ে হিসেবে কোয়েলের এই সিদ্ধান্তকে অনেকে ‘পারিবারিক ঘনিষ্ঠতার পুরস্কার’ হিসেবে দেখছেন। তবে বিরোধীদের সমালোচনা ও ভক্তদের ট্রোল উপেক্ষা করে কোয়েল কীভাবে নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি গড়ে তোলেন, এখন সেটাই দেখার।