ভারতের সেমিফাইনালের পথে কাঁটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ! ইডেনে কি আবারও ইতিহাস লিখবেন হেটমেয়ার-রাদারফোর্ডরা?

তিলোত্তমার ইডেন গার্ডেন্স আবার সেজে উঠছে এক হাই-ভোল্টেজ দ্বৈরথের জন্য। ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ—কাগজে-কলমে এটি কেবল একটি ম্যাচ হতে পারে, কিন্তু পরিস্থিতির বিচারে এটি কার্যত টুর্নামেন্টের নক-আউট বা কোয়ার্টার ফাইনাল। ২০১৬ সালের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আজও ক্রিকেট প্রেমীদের মনে টাটকা। কার্লোস ব্রাথওয়েটের সেই টানা চারটি ছক্কা আর বেন স্টোকসের অসহায় আত্মসমর্পণ—ইডেন দেখেছিল ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের পুনরুত্থান। এক দশক পর আবারও সেই একই মঞ্চে ভারতের সামনে দাঁড়িয়ে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
শাই হোপের নেতৃত্বাধীন এই ক্যারিবিয়ান দলটির প্রধান বৈশিষ্ট্যই হলো তাদের অনিশ্চয়তা। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ২৫৬ রানের পাহাড় গড়ে তারা যেমন নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে, তেমনই দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বড় ব্যবধানে হেরে নিজেদের ধারাবাহিকতার অভাবও স্পষ্ট করেছে। তবে ইতিহাস বলছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হালকা ভাবে নেওয়া মানেই বিপদ ডেকে আনা। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তারা যে কোনো দিন যে কোনো বিশ্বসেরা দলকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
ভারতের চিন্তার কারণ হতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিধ্বংসী ব্যাটিং লাইনআপ। তিন নম্বরে নামা শিমরন হেটমায়ার এবং ফিনিশার হিসেবে শেরফান রাদারফোর্ড যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের রং বদলে দিতে পারেন। সঙ্গে রয়েছেন রভম্যান পাওয়েল এবং রোমারিও শেফার্ডের মতো পাওয়ার হিটাররা। যদি টপ অর্ডার ব্যর্থও হয়, তবে রস্টন চেজ বা ব্রেন্ডন কিংরা ইনিংস গড়ার কাজটা নিখুঁতভাবে করতে জানেন।
বোলিং বিভাগেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবার বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। আকিল হোসেন এবং গুডাকেশ মোটির স্পিন জুটি ভারতীয় ব্যাটারদের পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত। বিশেষ করে ইডেনের পিচে স্পিনাররা কিছুটা সুবিধা পেলে ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে বাধ্য। যদিও পেস বিভাগে সামার জোসেফ সাদা বলের ক্রিকেটে এখনও সেভাবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি, তবুও ওয়েস্ট ইন্ডিজের অ্যাথলেটিসিজম এবং ফিল্ডিং তাদের বাড়তি সুবিধা দেয়।
অন্য দিকে, টিম ইন্ডিয়া বর্তমানে দুর্দান্ত ছন্দে থাকলেও ঘরের মাঠে সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ সামলানোই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। ইডেন বরাবরই নাটকীয়তা পছন্দ করে। আইপিএলের সেই ২৬১ রান তাড়া করার রেকর্ড হোক বা বাটলারের অতিমানবীয় শতরান—এই মাঠ বারবার রূপকথার জন্ম দিয়েছে। ভারত কি পারবে তাদের জয়ের ধারা বজায় রাখতে, নাকি ওয়েস্ট ইন্ডিজ আরও একবার ইডেনের ঘাসে ‘ক্যালিপসো’ নাচে মেতে উঠবে? উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে।