“ইরান প্রতিশোধ নিলে…?”-‘আরও কঠোর’ হামলার হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ইরান যখন ‘ভয়ংকর’ প্রতিশোধের ছক কষছে, ঠিক তখনই হাড়হিম করা পালটা হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার (১ মার্চ) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যদি আঘাত করার চেষ্টা করে, তবে আমেরিকার শক্তিপ্রয়োগ হবে ইতিহাসের নজিরবিহীন।
ট্রাম্পের ‘চরম’ হুঁশিয়ারি
ইরানের পক্ষ থেকে আজ (রবিবার) বড় ধরনের হামলার ঘোষণা আসার পরপরই সরব হন ট্রাম্প। তিনি লেখেন:
“ইরান এইমাত্র বলেছে, তারা আজ খুব জোরালোভাবে আঘাত হানবে, এমনভাবে যা আগে কখনো হয়নি। তাদের এটি করা উচিত না। কারণ যদি তারা করে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে এমন শক্তি প্রয়োগ করব যা দুনিয়া আগে কখনো দেখেনি।”
স্কুলে হামলা ও শতাধিক শিক্ষার্থীর মৃত্যু
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই ইরানে আছড়ে পড়ে আমেরিকা ও ইসরায়েলের মিসাইল। এই হামলায় কেবল সরকারি দপ্তর নয়, তেহরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ও ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে বলে খবর। মর্মান্তিক এই ঘটনায় অন্তত শতাধিক ছাত্রীর প্রাণহানি ঘটেছে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই রক্তক্ষয়ী অভিযানের মাঝেই খামেনেইর মৃত্যুর খবর ইরানকে আরও রণংদেহি করে তুলেছে।
জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য, নিশানায় মার্কিন ঘাঁটি
খামেনেইর মৃত্যুর বদলা নিতে ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে ড্রোন ও মিসাইল হামলা শুরু করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড (IRGC)। তেহরানের দাবি, তারা স্রেফ রক্ষণের পথে না হেঁটে এবার সরাসরি ধ্বংসাত্মক প্রত্যাঘাত করবে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা
কূটনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্পের এই সরাসরি হুমকি পরিস্থিতিকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কিনারে নিয়ে দাঁড় করিয়েছে। একদিকে সপরিবারে খামেনেইর মৃত্যু ও নিষ্পাপ স্কুলছাত্রীদের প্রাণহানি, অন্যদিকে আমেরিকার ‘সর্বশক্তি’ প্রয়োগের হুমকি— সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক আগ্নেয়গিরি, যা যে কোনো মুহূর্তে ফেটে পড়তে পারে।