বিএলও পরিবারের সবার ভোটার নথি নিয়ে টানাপোড়েন! বসিরহাটেও ‘বিচারাধীন’ তালিকায় পুলিশ ও চিকিৎসকের নাম

রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল এক অদ্ভুত চিত্র। যেখানে সাধারণ মানুষের ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিএলও-দের (BLO), সেখানে খোদ বিএলও-র নামই এখন ‘সংশয়িত’ তালিকায়। নন্দীগ্রামের ৬৬ নম্বর বুথের বিএলও শেখ জাকির হোসেন তাঁর নিজের নাম অমীমাংসিত বা ‘Under Adjudication’ তালিকায় দেখে স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন।

বিএলও-র ক্ষোভ ও নথির দাবি: নন্দীগ্রামের দিনন্দপুর বিদ্যালয়ে কর্মরত জাকির হোসেন দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে সরকারি চাকরি করছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর নিজের তো বটেই, তাঁর পরিবারের প্রত্যেকের পাসপোর্ট রয়েছে। সমস্ত তথ্য সঠিক থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁর নাম চূড়ান্ত তালিকায় অনুমোদিত হল না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। জাকির হোসেনের কথায়, “২৮ বছর ধরে চাকরি করছি, পাসপোর্ট আছে, তবুও কেন আমার নাম অমীমাংসিত তালিকায় থাকবে? এটি অত্যন্ত অপমানজনক।”

বসিরহাটেও একই চিত্র: শুধুমাত্র নন্দীগ্রাম নয়, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটেও একই রকম পরিস্থিতির খবর মিলেছে। বসিরহাট ১ নম্বর ব্লকের ৮৪ নম্বর বুথের বিএলও আক্তার রসূল বাচ্চুর গোটা পরিবারের নামই এখন ‘অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকায়। আশ্চর্যের বিষয় হল, তাঁর বোন একজন কর্মরত রাজ্য পুলিশ কর্মী, দাদা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক এবং বাবা প্রাক্তন বেসরকারি কর্মচারী। শুনানিতে সমস্ত বৈধ নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও চারজনের নামই অমীমাংসিত তালিকায় রাখা হয়েছে।

কেন এই জট? নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নথিতে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যৌক্তিক অসংগতি পাওয়ায় সেগুলিকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের (Judicial Officers) পর্যবেক্ষণে পাঠানো হয়েছে। যতক্ষণ না এই বিচার প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে, ততক্ষণ এই ভোটারদের ভাগ্য ঝুলে থাকবে। তবে কমিশন জানিয়েছে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত সংশোধিত নামগুলি সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে যুক্ত হতে থাকবে।