রঞ্জি ট্রফিতে রূপকথা! শক্তিশালী কর্ণাটককে গুঁড়িয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন জম্মু-কাশ্মীর, ধন্য ধন্য করছে ক্রিকেট বিশ্ব

ভারতীয় ক্রিকেটে ঘটে গেল এক ঐতিহাসিক ‘মিরাকল’। যে রাজ্যের ক্রিকেট পরিকাঠামো নিয়ে হাজারো প্রশ্ন, যেখানে ক্লাব ক্রিকেটের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে, সেই জম্মু-কাশ্মীরই এখন ভারতের নতুন রঞ্জি চ্যাম্পিয়ন। শনিবার ৬৭ বছরের খরা কাটিয়ে প্রথমবার ফাইনালে উঠেই ইতিহাস গড়ল তারা। শক্তিশালী কর্ণাটককে কার্যত একপেশে লড়াইয়ে হারিয়ে ট্রফি হাতে তুললেন আকিব নবি, আব্দুল সামাদরা। ফিনিক্স পাখির মতো এই উত্থানে স্তম্ভিত গোটা ক্রিকেটমহল।

অজয় শর্মার ‘সুপার থার্টি’ ও অদম্য লড়াই: জম্মু-কাশ্মীরের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন কোচ অজয় শর্মা। ২০২২ সাল থেকে যেভাবে তিনি প্রান্তিক এলাকা থেকে উঠে আসা আকিব, সামাদদের ঘষেমেজে তৈরি করেছেন, তাকে রূপালি পর্দার ‘সুপার থার্টি’-র লড়াইয়ের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। ফাইনালে কর্ণাটকের তারকাখচিত ব্যাটিং লাইনআপকে শুরু থেকেই চাপে ফেলে দেয় জম্মু। প্রথম ইনিংসে জম্মুর ৫৮৪ রানের পাহাড়প্রমাণ স্কোরের জবাবে মাত্র ২৯৩ রানেই গুটিয়ে যায় কর্ণাটক। ২৯১ রানের বিশাল লিড নিয়ে কর্ণাটককে ফলো-অন না করিয়ে আবারও ব্যাটিংয়ের সাহস দেখায় জম্মু।

ব্যাট-বলের দাপট ও রূপকথার জয়: দ্বিতীয় ইনিংসেও দাপট অব্যাহত ছিল। কামরান ইকবাল (অপরাজিত ১৬০) এবং সাহিল লথরা (অপরাজিত ১০১)-র ব্যাটে ভর করে ৪ উইকেটে ৩৪২ রান তুলে ইনিংস ডিক্লেয়ার করে জম্মু। দেবদত্ত পাড়িক্কালদের সামনে জয়ের কোনও সুযোগই রাখেনি তারা। গোটা টুর্নামেন্টে অবিশ্বাস্য পারফর্ম করেছেন পরশ ডোগরা, কানহাইয়া ওয়াধাবন এবং আব্দুল সামাদ (মোট ৭৪৮ রান)। তবে বল হাতে আসল ‘গ্ল্যাডিয়েটর’ ছিলেন আকিব নবি। ১০ ম্যাচে ৬০ উইকেট নিয়ে তিনি এখন লাইমলাইটে।

সৌরভের প্রশংসা ও আইপিএল কানেকশন: বারামুল্লার বিতর্কিত এলাকা থেকে উঠে আসা আকিব নবিকে নিয়ে এখন মাতোয়ারা ক্রিকেট বিশ্ব। সম্প্রতি আইপিএল নিলামে দিল্লি ক্যাপিটালস তাঁকে ৮ কোটি ৪০ লক্ষ টাকায় কিনেছে। আকিবের প্রশংসায় পঞ্চমুখ খোদ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন, “জম্মু-কাশ্মীর দেখিয়ে দিল পরিশ্রম ও খিদে থাকলে কী সম্ভব। আকিব নবি ইংল্যান্ড সফরের দলে থাকার যোগ্য।” ‘রিয়েল কাশ্মীর’ ফুটবল ক্লাবের পর এবার ক্রিকেট নিয়েও সিনেমা বা ওয়েবসিরিজ হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। মাত্র দুটি মাঠ নিয়ে প্র্যাকটিস করে রঞ্জি জয় নিশ্চিতভাবেই ভারতীয় ক্রিকেটের পরিধি বাড়িয়ে দিল।