তারেক রহমানের জমানায় বরফ গলছে সম্পর্কের? ভারতীয়দের জন্য ভিসা খুলছে ঢাকা, ফরিদপুরে বড় ঘোষণা

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভিসা সংক্রান্ত টানাপোড়েন এবার মিটতে চলেছে। আওয়ামী লিগ পরবর্তী বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার গঠনের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মোড় আসার ইঙ্গিত মিলল। শুক্রবার ফরিদপুরে গিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, সে দেশের নাগরিকরা যাতে সহজেই ভারতে আসতে পারেন, তার জন্য কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রক তৎপরতা শুরু করেছে।
গত কয়েক বছরে উত্তাল পরিস্থিতির জেরে দুই দেশের ভিসা পরিষেবা কার্যত তলানিতে এসে ঠেকেছিল। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, একসময় দৈনিক ৮ হাজার ভিসার সংখ্যা কমে মাত্র দেড় হাজারে দাঁড়িয়েছিল। এর ফলে সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়েছিলেন চিকিৎসার প্রয়োজনে ভারতে আসতে চাওয়া সাধারণ বাংলাদেশিরা। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই জট কাটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শামা ওবায়েদ দাবি করেছেন, “ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক কথা হয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনারও চাইছেন দ্রুত ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হোক।” ঢাকার পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন এবং ত্রিপুরার আগরতলায় স্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশন থেকে পুনরায় ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা দেওয়া শুরু হবে। ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর তৈরি হওয়া অস্থিরতা কাটিয়ে এখন দুই দেশই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে চাইছে। মূলত চিকিৎসা, শিক্ষা এবং ব্যবসার প্রয়োজনে আটকে থাকা হাজার হাজার মানুষের জন্য এই ঘোষণা বড় স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।