মেয়ে-নাতি সহ মৃত্যু খামেনেইয়ের, অবশেষে স্বীকার করল ইরান, ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে কার্যত দাবানল ছড়িয়ে পড়ল। রবিবার ভোরে ইরান ও আমেরিকার যৌথ বিমান হামলায় ইরানি রাজনীতির দীর্ঘ মহীরুহ তথা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে খোদ ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমই এই চাঞ্চল্যকর তথ্যে শিলমোহর দিয়েছে।

খামেনেইর মৃত্যু ও ট্রাম্পের দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ প্রথম এই খবরের ইঙ্গিত দেন। তিনি দাবি করেন, ইতিহাসের অন্যতম ‘নিষ্ঠুর’ শাসক আয়াতোল্লাহ খামেনেই আর বেঁচে নেই। ইজরায়েল ও আমেরিকার এই যৌথ অপারেশন এতটাই সুনির্দিষ্ট ছিল যে, খামেনেই বা তাঁর ঘনিষ্ঠরা পালানোর ন্যূনতম সুযোগটুকু পাননি। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৭টা ২০ নাগাদ ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে এই মৃত্যুর খবর ঘোষণা করে।

পুরো পরিবারই কি শেষ?

ইরানিয়ান স্টেট মিডিয়া সূত্রে পাওয়া চাঞ্চল্যকর দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় শুধুমাত্র ৮৬ বছর বয়সী খামেনেই নন, তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। রিপোর্ট বলছে, মার্কিন-ইজরায়েলি এয়ারস্ট্রাইকে খামেনেইর মেয়ে, নাতি, জামাই এবং পুত্রবধূরও মৃত্যু হয়েছে। গোয়েন্দা মারফত পাওয়া খবর অনুযায়ী, হামলার সময় খামেনেই তাঁর অফিসেই ছিলেন এবং সেই ভবনটিকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

ইরানে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা

এই চরম সংকটে ভেঙে পড়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বিভাগ। ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC) খামেনেইর মৃত্যুকে ‘শহিদ’ হিসেবে বর্ণনা করে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে। দেশজুড়ে আগামী ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতি

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে ইরানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত ধুলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে। তেহরানের প্রেসিডেন্ট ভবনসহ প্রায় ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই এয়ারস্ট্রাইক চালানো হয়। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই অভিযানকে ‘বড় সাফল্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সতর্কবার্তা: ইরানে উদ্ভূত পরিস্থিতির জেরে সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের ঘরের বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছে ভারত সরকার।