খামেনেই খতম! আমেরিকা-ইজরায়েলের ‘মহা-অপারেশনে’ চুরমার তেহরান, ৪০ দিনের শোক ইরানে

মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে সবথেকে বড় এবং প্রলয়ঙ্কারী ঘটনাটি ঘটে গেল। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইরানের স্টেট টেলিভিশন (IRIB) আজ রবিবার সকালে সরকারিভাবে নিশ্চিত করল—নিহত হয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে তেহরানে তাঁর বাসভবনেই প্রাণ হারিয়েছেন ৮৬ বছর বয়সী এই শীর্ষ নেতা। তাঁর মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
সপরিবারে নিকেশ খামেনেই: ইরানি সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার খামেনেইয়ের বাসভবন লক্ষ্য করে যে নিখুঁত হামলা চালানো হয়েছিল, তাতে কেবল সুপ্রিম লিডার নন, প্রাণ হারিয়েছেন তাঁর মেয়ে, জামাতা, পুত্রবধূ এবং তাঁর নাতিও। অর্থাৎ খামেনেইয়ের পরিবারের একটি বড় অংশ এই হামলায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, এই অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আমির নাসিরজাদাহ এবং রেভোলিউশনারি গার্ডের কম্যান্ডার মহম্মদ পাকপৌরও নিহত হয়েছেন বলে খবর।
ভবিষ্যৎ এখন কোন পথে? ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন খামেনেই। কিন্তু তিনি কোনো উত্তরসূরি ঘোষণা করে যাননি। ফলে তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একদিকে দেশের শাসনভার নিয়ে অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে ইজরায়েল ও আমেরিকার ওপর চরম প্রতিশোধ নেওয়ার জেদ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন অগ্নিগর্ভ।
পরমাণু হামলার আশঙ্কা: প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, খামেনেইয়ের হত্যার পর ইরান এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। ইতিমধ্যেই তেহরান থেকে বড় ধরনের প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইরান এবার সরাসরি পরমাণু হামলার পথে হাঁটতে পারে, যা গোটা বিশ্বকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দোরগোড়ায় দাঁড় করিয়ে দিতে পারে। ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ শেষ পর্যন্ত শান্তির পথ প্রশস্ত করবে নাকি রক্তক্ষয়ী মহাযুদ্ধের সূচনা করবে, এখন সেটাই দেখার।