তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান কি সত্যিই ‘বাংলাদেশি’? ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়তেই কালনায় হুলুস্থুল!

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ল খোদ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের! আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পূর্ব বর্ধমানের কালনার হাটকালনা এলাকায় রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। প্রধান শ্রাবন্তী মণ্ডল আদতে ‘বাংলাদেশি’—বিজেপির এই দীর্ঘদিনের অভিযোগ কি তবে সিলমোহর পেল? শনিবার এসআইআর (SIR)-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতেই দেখা যায়, তৃণমূল প্রধান শ্রাবন্তী মণ্ডলের নামের পাশে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘ডিলিটেড’ (Deleted)। এই খবর চাউর হতেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: কালনা থানার হাটকালনা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শ্রাবন্তী মণ্ডলের বিরুদ্ধে অনেকদিন ধরেই সরব ছিল গেরুয়া শিবির। বিজেপির দাবি ছিল, শ্রাবন্তী দেবী আদতে বাংলাদেশি নাগরিক। তিনি অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে ঢুকে জাল নথিপত্র তৈরি করে পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং প্রধানের পদ হাতিয়েছেন। যদিও সেই সময় সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে শ্রাবন্তী মণ্ডল চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছিলেন, “আমি বাংলাদেশি নই। যারা অভিযোগ করছে তারা আগে নিজেদের ভারতীয় প্রমাণ করুক।”
ক্যামেরা দেখে মেজাজ হারালেন প্রধান: শনিবার ভোটার তালিকায় নাম না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হতেই সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে কালনায় তাঁর বাড়িতে যান। প্রথমে তাঁকে পাওয়া না গেলেও, পরে রাস্তায় দেখা মিললে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতেই মেজাজ হারান তিনি। ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে অস্বীকার করার পাশাপাশি সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও করেন তিনি। এরপর সংবাদমাধ্যমের নজর এড়াতে তড়িঘড়ি একটি টোটোয় চড়ে এলাকা ছাড়েন প্রধান। তাঁর এই আচরণ সন্দেহ আরও উস্কে দিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিজেপির তোপ ও পরবর্তী পদক্ষেপ: বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক সুমন ঘোষ বলেন, “আমরা বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ জানিয়েছিলাম যে হাটকালনা পঞ্চায়েত প্রধান একজন বাংলাদেশি। ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ যাওয়া আমাদের অভিযোগের সত্যতাই প্রমাণ করল। আমরা নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাই। এবার তাঁর প্রধানের পদ খারিজের দাবিতে আমরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হব।”
কালনার এই ঘটনায় তৃণমূলের অন্দরেও অস্বস্তি বেড়েছে। যদি শেষ পর্যন্ত শ্রাবন্তী মণ্ডলের নাগরিকত্ব নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়, তবে ওই পঞ্চায়েতের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।