খামেনেই খতম! আমেরিকা-ইজরায়েলের ‘মহা-অপারেশনে’ চুরমার তেহরানের দর্প, ৪০ দিনের শোক ইরানে

বিশ্ব রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী ও প্রলয়ঙ্কারী অধ্যায়ের সূচনা হলো। অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইরান সরকার ও সে দেশের সংবাদমাধ্যম সরকারিভাবে ঘোষণা করল—নিহত হয়েছেন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই। গত কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা টানটান উত্তেজনার পর তেহরান স্বীকার করে নিয়েছে যে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন ৮৬ বছর বয়সী এই শীর্ষ নেতা। তাঁর মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
অপারেশন ও ট্রাম্পের বিস্ফোরণ: রবিবার ভোরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ হ্যান্ডেলে প্রথম এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রকাশ্যে আনেন। ট্রাম্প দাবি করেন, “বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট লোক খামেনেই আর বেঁচে নেই।” তিনি জানান, তেহরানের হৃদপিণ্ডে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। ট্রাম্পের কথায়, খামেনেইয়ের হাতে আমেরিকা-সহ বিশ্বের বহু নির্দোষ মানুষের রক্ত লেগে ছিল, আজ তাঁরা সুবিচার পেলেন। হোয়াইট হাউসের বাসিন্দার মতে, ইরানি নাগরিকদের কাছে এখন দেশপ্রেমিকদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশ শাসনের চাবিকাঠি নিজেদের হাতে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ।
নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি ও ইজরায়েলি হামলা: ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তেহরানের যে ভবনে খামেনেই থাকতেন, সেখানেই শক্তিশালী মিসাইল হানা চালানো হয়েছে। হামলার ধরন ও ইজরায়েলি গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী তখনই খামেনেইয়ের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছিল। নেতানিয়াহুর দাবি, এই আঘাত ইরানের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে।
ইরানের পাল্টা আঘাত ও এক্স হ্যান্ডেলের রহস্য: খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার আগে তাঁর অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে একটি রহস্যময় পোস্ট করা হয়। তরোয়ালধারী এক ব্যক্তির ছবি দিয়ে লেখা হয়, “পবিত্র ঈশ্বরের নামে…।” এদিকে খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরপরই পাল্টা প্রত্যাঘাতের পথে হেঁটেছে ইরান। খবর মিলছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর বেশ কিছু হোটেল ও বহুতলে ড্রোন বা মিসাইল হামলা চালিয়েছে তারা। ইরানের ক্যাবিনেট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, খামেনেইয়ের মৃত্যু ব্যর্থ হবে না এবং ইজরায়েলকে এর চূড়ান্ত মূল্য দিতে হবে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দামামা বেজে উঠল।