ইজরায়েলি হামলায় খতম আয়াতোল্লা খামেনেই! তেহরানে শোকের ছায়া, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা

মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এক প্রলয়ঙ্কারী মোড়! আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। রবিবার ভোরে ইরানি সরকারি সংবাদমাধ্যম ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এই চাঞ্চল্যকর খবর নিশ্চিত করেছে। ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের শাসনভার সামলানো ৮৬ বছর বয়সী এই নেতার মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের জাতীয় শোক এবং ৭ দিনের রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

অপারেশন ‘লায়নস রোর’ ও মৃত্যু সংবাদ: শনিবার সকাল থেকে ইরানজুড়ে ইজরায়েলি বিমান বাহিনীর ভয়াবহ বোমাবর্ষণ শুরু হয়। ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা এবং মার্কিন ট্র্যাকিং সিস্টেমের নিখুঁত নিশানায় তেহরানে খামেনেইয়ের বাসভবন ও কার্যালয়ে আঘাত হানে শক্তিশালী মিসাইল। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, হামলার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে খামেনেইয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খামেনেইয়ের পাশাপাশি তাঁর মেয়ে, জামাতা এবং নাতনিও এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে খবর।

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া: খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ঘোষণা করেন, “ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস ব্যক্তি খামেনেই মৃত। এটি ইরানি জনগণের জন্য তাদের দেশ ফিরিয়ে নেওয়ার শ্রেষ্ঠ সুযোগ।” ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও এই সফল অভিযানকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন। সূত্রের খবর, খামেনেইয়ের মৃতদেহের ছবি ইতিমধ্যেই দুই রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ইরানের অবস্থান ও শোকপালন: প্রথমে এই খবর অস্বীকার করলেও রবিবার সকালে শোকবিহ্বল কণ্ঠে ইরানি সংবাদ সঞ্চালকরা খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর পাঠ করেন। তেহরানের রাস্তায় বহু মানুষকে কালো পোশাক পরে শোক পালন করতে দেখা গিয়েছে, আবার কিছু জায়গায় উল্লাসের খবরও মিলেছে। ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, এই হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে। তবে খামেনেইয়ের উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে এখন বিশ্ব রাজনীতিতে চরম জল্পনা শুরু হয়েছে। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।