৩০ ঘণ্টা বিমানের ভেতরেই বন্দি! বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে নেপালগামী যাত্রীদের রণংদেহি মেজাজ

বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হলো। গন্তব্য ছিল হিমালয়ের দেশ নেপাল, কিন্তু গত ৩০ ঘণ্টা ধরে বিমান আর বিমানবন্দরের চক্কর কাটতে কাটতে ধৈর্য হারালেন ১৮০ জন যাত্রী। এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি ফ্লাইটের বারবার ল্যান্ডিং ব্যর্থ হওয়া এবং কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনার অভিযোগে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কাউন্টারের সামনেই বসে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন পর্যটকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষমেশ আসরে নামতে হয় সিআইএসএফ (CISF) বাহিনীকে।

ঘটনার সূত্রপাত: গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ১৮০ জন যাত্রী নিয়ে বেঙ্গালুরু থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দেয় এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের বিমানটি। নেপালের আকাশে পৌঁছালেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এটি অবতরণ করতে পারেনি। দীর্ঘক্ষণ আকাশে চক্কর কাটার পর বিমানটি পুনরায় বেঙ্গালুরুতে ফিরে আসে। যাত্রীদের অভিযোগ, সেই সময় তাঁদের পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়নি।

দ্বিতীয় দিনের বিভীষিকা: শুক্রবার সকালে পুনরায় যাত্রীদের নিয়ে বিমানটি কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে ওড়ে। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে দ্বিতীয়বারও ল্যান্ডিং ব্যর্থ হয়। এবার বিমানটিকে ঘুরিয়ে উত্তরপ্রদেশের লখনউতে নিয়ে যাওয়া হয়। যাত্রীদের দাবি, লখনউ বিমানবন্দরে নামার পর তাঁদের দীর্ঘক্ষণ বিমানের ভেতরেই বসিয়ে রাখা হয়। খাবার বা পানীয় জলের সঠিক ব্যবস্থা ছিল না বলেও অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। ক্লান্ত এবং বিরক্ত যাত্রীরা বিমানের ভেতরেই স্লোগান দিতে শুরু করেন।

৩০ ঘণ্টার নরকযন্ত্রণা ও বিক্ষোভ: একজন ক্ষুব্ধ যাত্রী জানান, “আমরা গত ৩০ ঘণ্টা ধরে কার্যত বন্দি। আমাদের কোনো তথ্য দেওয়া হচ্ছে না, অথচ আমাদের নেপাল ভ্রমণের সমস্ত বুকিং বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এই আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির দায় কে নেবে?” লখনউ থেকে পুনরায় বেঙ্গালুরুতে ফিরিয়ে আনা হলে ক্ষোভের বারুদ বিস্ফোরণ ঘটে। যাত্রীরা বিমানবন্দরের ভেতরেই ধর্নায় বসেন।

এয়ারলাইন্সের সাফাই: বিতর্ক দানা বাঁধতেই মুখ খুলেছে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি কাঠমান্ডুর আবহাওয়া অত্যন্ত খারাপ থাকায় নিরাপত্তার খাতিরেই বিমান ডাইভার্ট করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য হোটেল বুকিং, বিনামূল্যে টিকিট রিশিডিউলিং অথবা সম্পূর্ণ টাকা ফেরতের (Refund) বিকল্প দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আটকে পড়া যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে একটি বিশেষ ‘রিকভারি ফ্লাইট’-এর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে যাত্রীদের দাবি, এই পরিষেবা দিতে অনেক দেরি করে ফেলেছে সংস্থাটি।