‘ধন্যবাদ না জানিয়েই বদলি!’ উচ্চমাধ্যমিকের শেষ দিনেই অপসারিত চিরঞ্জীব, বিস্ফোরক ‘বিদ্রোহী’ প্রাক্তন সভাপতি

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার শেষ দিনেই তিলোত্তমার শিক্ষা মহলে মহানাটক! দীর্ঘদিনের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় পার্থ কর্মকারকে নিয়োগ করল রাজ্য সরকার। কিন্তু পদ হারানোর পরেই সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন চিরঞ্জীববাবু। তাঁর দাবি, এই অপসারণ ছিল ‘অপ্রত্যাশিত’ এবং ‘দুর্ভাগ্যজনক’। কোনো আলোচনা বা আগাম বার্তা ছাড়াই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের বিস্ফোরক বয়ান এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, “পরীক্ষাটা পরিচালনা করা একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। আশা করেছিলাম সফলভাবে পরীক্ষা শেষ হওয়ায় শুভেচ্ছা পাব, কিন্তু পেলাম অন্য এক নির্দেশ। আমাকে না জানিয়েই আমার বিকল্প আনা হল। এটা দুর্ভাগ্যজনক।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, তাঁর মেয়াদের সময়সীমা ছিল আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত। তার আগেই কেন এই তড়িঘড়ি বদল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
যাদবপুর নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য চিরঞ্জীববাবু বর্তমানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী উপাচার্য পদেও রয়েছেন। তবে সভাপতির পদ যাওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি মানসিকভাবে অসুস্থ বোধ করছি। উপাচার্যের কাজ চালিয়ে যাব কি না, তা নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেব।” তাঁর এই মন্তব্য থেকে পরিষ্কার যে, শিক্ষা দপ্তরের এই পদক্ষেপে তিনি চরম অপমানিত বোধ করছেন।
কেন এই অপসারণ? যদিও সরকারি স্তরে এর কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি, তবে সম্প্রতি উচ্চমাধ্যমিকের চতুর্থ সেমিস্টারের অঙ্ক পরীক্ষায় সিলেবাস বহির্ভূত প্রশ্ন ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ১০ নম্বরের ভুল প্রশ্নের জন্য সংসদকে বিবৃতি দিয়ে নম্বর দেওয়ার কথা ঘোষণা করতে হয়েছিল। এছাড়াও সময়মতো বই না পাওয়া এবং সিলেবাস শেষ না হওয়ার মতো অভিযোগও ছিল তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই ধারাবাহিক ‘অস্বস্তি’ এড়াতেই কি নবান্ন এই কড়া সিদ্ধান্ত নিল? আগামী ২ মার্চ থেকে নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন পার্থ কর্মকার।