উচ্চমাধ্যমিকে বড় রদবদল! চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের জায়গায় নতুন সভাপতি পার্থ কর্মকার, চালু হচ্ছে এআই-সাইবার সিকিউরিটির মতো আধুনিক কোর্স

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার শেষ দিনেই রাজ্য শিক্ষা দপ্তরে বড়সড় রদবদল। পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের নতুন সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হলেন পার্থ কর্মকার। বর্তমানে তিনি পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের ডেপুটি সেক্রেটারি এবং গণিতের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। আগামী ২ মার্চ থেকে তিনি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের স্থলাভিষিক্ত হবেন। উল্লেখ্য, চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বর্তমানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
সেমিস্টার বিতর্ক ও পরীক্ষার্থীর পরিসংখ্যান এ বছর থেকেই উচ্চমাধ্যমিকে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু হয়েছে, যা নিয়ে প্রথম থেকেই বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। বই দেরিতে পাওয়া এবং সিলেবাস শেষ না হওয়া নিয়ে অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। এরই মাঝে শুক্রবার শেষ হলো চতুর্থ সেমিস্টারের পরীক্ষা। এবারের পরীক্ষার কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান হলো:
-
মোট পরীক্ষার্থী: ৭ লক্ষ ১০ হাজার।
-
ছাত্র বনাম ছাত্রী: ছাত্রদের (৪৪.৪০%) তুলনায় ছাত্রীদের (৫৫.৬০%) সংখ্যা অনেক বেশি। ছাত্রীদের সংখ্যা ছাত্রদের চেয়ে ৭৯,৩৪৭ জন বেশি।
-
পরীক্ষা কেন্দ্র: রাজ্যজুড়ে মোট ২১০৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।
নতুন বিষয় ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা (CAC ও CTC) সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে একগুচ্ছ আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক বিষয় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংসদ। প্রযুক্তিনির্ভর এই বিষয়গুলিকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে: ১. Council Assisted Courses (CAC): এর অধীনে থাকছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ডেটা সায়েন্স, অ্যাপ্লায়েড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং সাইবার সিকিউরিটি। এই ক্লাসগুলি স্কুলের সময়ের পর অনলাইনের মাধ্যমে নেওয়া হবে। ২. Council Taught Courses (CTC): এই ক্ষেত্রে সংসদ সরাসরি অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে জুম প্ল্যাটফর্মে ক্লাস নেবে। প্রয়োজনে জেলাভিত্তিক অফলাইন ক্লাসের ব্যবস্থাও করা হবে।
সংসদ জানিয়েছে, এই নতুন বিষয়গুলির জন্য স্কুলগুলিকে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে আবেদন করতে হবে। শীঘ্রই এই সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। পাঠ্যসূচি অনুযায়ী প্রি-রেকর্ডেড ভিডিওর মাধ্যমেও পঠনপাঠন চালানো হতে পারে।