এগিয়ে থেকেও চুরমার লাল-হলুদ রক্ষণ! যুবভারতীতে অস্কার ব্রুজোর দলের জয়রথ থামাল জামশেদপুর

মরসুমের প্রথম দুই ম্যাচে দাপুটে জয়ের পর জয়ের হ্যাটট্রিকের স্বপ্নে বিভোর ছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু শুক্রবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে চিত্রনাট্য বদলে দিল জামশেদপুর এফসি। ম্যাচের ৬০ মিনিট পর্যন্ত দাপট বজায় রেখেও শেষ পর্যন্ত ১-২ গোলে হার মানতে হলো অস্কার ব্রুজোর দলকে। জয়ের হ্যাটট্রিক তো হলোই না, বরং ঘরের মাঠে লিড ধরে রাখতে না পারার যন্ত্রণায় পুড়তে হলো লাল-হলুদ সমর্থকদের।
এডমুন্ডের গোলে আশা জাগানো প্রথমার্ধ ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই ছিল আক্রমণাত্মক। জামশেদপুরের মাধি তালালাল মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করলেও গোলকিপার প্রভসুখন গিল কয়েকটি অবিশ্বাস্য সেভ করে ইস্টবেঙ্গলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। খেলার গতির বিপরীতে ৪০ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন এডমুন্ড লালরিন্ডিকা। বিপিন সিংয়ের নিখুঁত ক্রস থেকে গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। বিরতির আগে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ এলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি ইস্টবেঙ্গলের ফরোয়ার্ডরা।
৬০ মিনিটের পর তাসের ঘরের মতো ভাঙল রক্ষণ দ্বিতীয়ার্ধে ৬০ মিনিট পর্যন্ত লিড ধরে রেখেছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু এরপরই আক্রমণের তেজ বাড়ায় জামশেদপুর। ইস্টবেঙ্গলের দুর্বল রক্ষণের সুযোগ নিয়ে প্রথমে সমতা ফেরান স্টিফেন এজ। ১-১ হওয়ার পর ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড, কিন্তু একাধিক সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হয় তাদের। ম্যাচের শেষ লগ্নে রেই তাচিকাওয়ার করা গোল ইস্টবেঙ্গলের হারের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেয়।
শীর্ষে জামশেদপুর, হতাশায় ইস্টবেঙ্গল টানা তিন ম্যাচ জিতে লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠে এল জামশেদপুর এফসি। অন্যদিকে, জয়ের সরণিতে থাকা ইস্টবেঙ্গলকে থামতে হলো তিন নম্বরে। কোচ অস্কার ব্রুজোর প্রশিক্ষণে দলের আক্রমণভাগ ছন্দ খুঁজে পেলেও, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রক্ষণের খেই হারিয়ে ফেলা এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত সময়েও গোল শোধের মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।