‘আমাকে শেষ করতে চেয়েছিল…’ আদালত চত্বরেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন কেজরিওয়াল! আবগারি মামলায় জয়ী ‘সত্য’

দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে স্বস্তি। বহুল চর্চিত দিল্লি আবগারি মামলা (Delhi Liquor Policy Case) থেকে সসম্মানে অব্যাহতি পেলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া। শুক্রবার দিল্লির বিশেষ আদালত এই মামলার রায় দিতে গিয়ে সিবিআই-এর চার্জশিটে একাধিক গুরুতর ত্রুটির কথা উল্লেখ করেছে। আদালতের এই নির্দেশের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি আম আদমি পার্টির প্রধান। আদালত চত্বরেই সংবাদমাধ্যমের সামনে কেঁদে ফেলেন তিনি।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সিবিআই-এর ব্যর্থতা বিশেষ বিচারক জিতেন্দ্র সিং তাঁর রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সিবিআই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পেশ করতে পারেনি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি ছিল, ‘সাউথ লবি’ থেকে ১০০ কোটি টাকা নিয়ে আবগারি নীতিতে রদবদল করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ তদন্তের পর সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়ার নাম জড়ালেও, তার স্বপক্ষে কোনো জোরালো তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। আদালত সাফ জানায়, অভিযুক্ত ২৩ জনের বিরুদ্ধেই কোনো প্রাথমিক মামলা (Prima Facie Case) তৈরি হয়নি। এমনকি কেজরিওয়ালকে কোনো জোরালো প্রমাণ ছাড়াই এই মামলায় জড়ানো হয়েছে বলেও পর্যবেক্ষণ আদালতের।

কান্নাভেজা চোখে বিস্ফোরক কেজরিওয়াল আদালতের নির্দেশের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আবেগতাড়িত কেজরিওয়াল বলেন, “আমি দুর্নীতিগ্রস্ত নই। আদালত আজ প্রমাণ করে দিল কেজরিওয়াল এবং মণীশ সিসোদিয়া দুজনেই সৎ।” চোখের জল মুছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, “এটি একটি বিরাট রাজনৈতিক চক্রান্ত ছিল। নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ মিলে আম আদমি পার্টিকে শেষ করতে চেয়েছিল। একজন মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর বাড়ি থেকে টেনে বের করে জেলে পোরা হয়েছিল। আমি জীবনে শুধুমাত্র সততাই অর্জন করেছি, আজ সেই সততারই জয় হলো।”

রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় ২০২২ সালে সিবিআই প্রথম এই মামলায় চার্জশিট ফাইল করেছিল। তারপর থেকে দফায় দফায় জেরা এবং গ্রেফতারিতে তোলপাড় হয়েছিল জাতীয় রাজনীতি। কিন্তু আজকের রায়ে বিচারক কড়া ভাষায় জানিয়েছেন যে, সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত মৌলিক অধিকার, যা এই ক্ষেত্রে লঙ্ঘিত হয়েছে। প্রমাণের অভাবে সমস্ত অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার এই নির্দেশ আম আদমি পার্টির জন্য এক বিরাট নৈতিক ও রাজনৈতিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।