পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে মহাযুদ্ধ! বদলা নিতে এবার কি চরম পথে তালিবান?

দক্ষিণ এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা! দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা এবার রূপ নিল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। শুক্রবার আফগানিস্তানের ভয়াবহ বিমান হামলায় কেঁপে উঠল পাকিস্তান। ইসলামাবাদের খাস তালুকে প্রধানমন্ত্রী আবাসের মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে সেনা ক্যাম্পে আছড়ে পড়ল গোলা। এই ঘটনায় অন্তত ১২ জন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ২৭ জন। একজন নিখোঁজ বলেও খবর।

আফগান সেনাপ্রধানের রক্তচক্ষু এই হামলার পর পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আফগান সেনাপ্রধান ফাসিহুদ্দিন ফিতরত। তিনি স্পষ্ট জানান, আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বে আঘাত করলে তার ফল হবে মারাত্মক। ফিতরতের হুঙ্কার, “তোমরা যদি আঙুল তোলো, আমরা মুষ্টি তুলে জবাব দেব। পাকিস্তান অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে ইসলামাবাদও নিরাপদ থাকবে না।”

পাল্টা মরণকামড় পাকিস্তানের পাক সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ শাখা (ISPR) এই হামলার কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছে, তাদের পাল্টা অভিযানে ২৭৪ জন আফগান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে ৭৩টি আফগান পোস্ট। পাক সেনার দাবি, তালিবান সরকার আসলে একটি ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন’ এবং এই হামলা একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

কেন এই হঠাৎ আক্রমণ? আফগানিস্তানের দাবি, কাবুল ও কান্দাহারে পাকিস্তানের আগের হামলার বদলা নিতেই এই অভিযান। আফগান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাকানি খোস্তের এক বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছেন, আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় আফগানিস্তান যেকোনো পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই লড়াইয়ে ৫৫ জন পাক সেনা নিহত হয়েছে।

ফুটছে আফগানিস্তান, জিহাদের ডাক এই ঘটনার পর আফগান আমজনতার মধ্যে তীব্র পাকিস্তান-বিরোধী ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাজপথ—সর্বত্রই পাকিস্তানকে ‘আগ্রাসী’ তকমা দিয়ে বদলা নেওয়ার দাবি উঠছে। এমনকি ধর্মীয় উসকানি দিয়ে কেউ কেউ ‘জিহাদ’-এর ডাকও দিতে শুরু করেছেন। দুই পরমাণু শক্তিধর পড়শির এই দ্বন্দ্বে এখন সিঁদুরে মেঘ দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।