কলকাতায় মহাপ্রলয় কম্পন! শপিংমল থেকে নবান্ন—আতঙ্কে রাস্তায় কয়েক হাজার মানুষ, কাঁপল পুরো দক্ষিণবঙ্গ!

দুপুরের ব্যস্ত তিলোত্তমায় হঠাৎই মহাপ্রলয়ের ইঙ্গিত! শুক্রবার দুপুর ১টা ২২ মিনিট নাগাদ এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫। শহরবাসীর দাবি, গত কয়েক দশকের মধ্যে এত প্রবল এবং দীর্ঘস্থায়ী কম্পন তাঁরা আগে অনুভব করেননি। ৫২ সেকেন্ডের এই আতঙ্ক এতটাই তীব্র ছিল যে, খোদ রাজ্য সচিবালয় ‘নবান্ন’ থেকে শুরু করে বড় বড় শপিংমল ও কর্পোরেট অফিসগুলোর কর্মীরা কাজ ফেলে রাস্তায় নেমে আসেন।

কোথায় ছিল উৎসস্থল? প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল বাংলাদেশ। কলকাতা থেকে মাত্র ৯০ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশের খুলনা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ছিল এই কম্পনের উৎস। মাটির নিচে প্লেটের সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট এই শক্তি সরাসরি আছড়ে পড়ে পশ্চিমবঙ্গের সমতলে।

আতঙ্কে জনজীবন কম্পন শুরু হতেই কলকাতার বহুতল আবাসনগুলি বিপজ্জনকভাবে দুলতে শুরু করে। মধ্য কলকাতার অনেক পুরনো বাড়ির দেওয়ালে ফাটল দেখা দেওয়ার খবর মিলেছে। আতঙ্কিত মানুষ যখন রাস্তায় এসে দাঁড়ান, তখন তাঁদের চোখে-মুখে ছিল কান্নার ছাপ। অনেকের মতে, “প্রথমে মাথা ঘুরছে মনে হলেও পরে দেখি ঘরের আসবাবপত্র রীতিমতো নাচছে!” হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা এমনকি বাঁকুড়াতেও এই কম্পন তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে।

আগের থেকে তীব্রতর? এর আগেও বেশ কয়েকবার কলকাতায় ভূমিকম্প হয়েছে, কিন্তু আজকের এই কম্পন যেন সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে। আবহাওয়া দফতর এবং সিসমোলজি বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর না মিললেও, বড়সড় কোনও পরিকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে রাজ্য জুড়ে সমীক্ষা শুরু হতে পারে। আপাতত আফটারশকের আশঙ্কায় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে সাধারণ মানুষকে।