কলকাতায় মহাপ্রলয়! ৫.৫ তীব্রতার ভূমিকম্পে কাঁপল তিলোত্তমা, উত্তরবঙ্গের পর এবার দক্ষিণবঙ্গেও আতঙ্ক!

উত্তরবঙ্গের আতঙ্ক এবার থাবা বসাল খোদ কলকাতায়। গত বৃহস্পতিবার পাহাড়ে কম্পনের পর আজ শুক্রবার দুপুর ১টা ২২ মিনিটে এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। কম্পন শুরু হতেই অফিস পাড়া থেকে শুরু করে জনবহুল আবাসন—সর্বত্র হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।

উৎসস্থল ও প্রভাব এবারের ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল বাংলাদেশের খুলনা। কলকাতা থেকে মাত্র ৯০ কিলোমিটার দূরে মাটির গভীরে এই আলোড়ন সৃষ্টি হওয়ায় মহানগরে কম্পনের তীব্রতা ছিল অনেক বেশি। সিসমোলজি দফতরের খবর অনুযায়ী, দুপুর ১টা ২২ মিনিট থেকে ১টা ২৩ মিনিটের মধ্যে কয়েক দফায় মাটি দুলে ওঠে। আতঙ্কে মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। উত্তর কলকাতার বেশ কিছু পুরনো বাড়ি হেলে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে, যার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

পাহাড় থেকে সমতল—তটস্থ বাংলা গত কয়েকদিন ধরেই সিকিম এবং উত্তরবঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কম্পন অনুভূত হচ্ছে। গতকালই সিকিমের গয়ালশিং-এ ৪.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আজ দক্ষিণবঙ্গ তথা কলকাতা কেঁপে ওঠায় বিশেষজ্ঞরা বড় কোনও বিপদের সঙ্কেত পাচ্ছেন। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল থেকে বাঁকুড়া—সব জায়গাতেই মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় অবস্থান করছেন।

পর্যটক ও স্থানীয়দের দুশ্চিন্তা সিকিমে গত কয়েক ঘণ্টায় ১৩ বার কম্পন অনুভূত হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও। পাহাড়ে থাকা কয়েক হাজার পর্যটক এই মুহূর্তে আতঙ্কিত। একদিকে তুষারপাত আর অন্যদিকে ঘনঘন ভূমিকম্প—দুই মিলিয়ে হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কলকাতায় পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলেছে প্রশাসন।