কলকাতায় ৫ তো মায়ানমারে ৬! দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জোড়া ভূমিকম্পের দাপট, বড় বিপদের সঙ্কেত দিচ্ছে প্রকৃতি?

ভরা দুপুরে ফের এক বড়সড় আতঙ্কের সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা। শুক্রবার ঠিক দুপুর ১টা ২২ মিনিট নাগাদ আচমকা প্রবল কম্পনে কেঁপে ওঠে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.০। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পন অনুভূত হতেই কর্মব্যস্ত শহরের অফিস এবং আবাসনগুলি থেকে আতঙ্কিত মানুষ হুড়মুড়িয়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
উৎসস্থল নিয়ে ধন্দ: খুলনা না মায়ানমার? প্রশাসনিক সূত্র থেকে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে যে, এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চল। তবে আন্তর্জাতিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছে। তাদের দাবি, ঠিক একই সময়ে মায়ানমারেও একটি শক্তিশালী কম্পন আঘাত হেনেছে, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬.০। মনে করা হচ্ছে, মায়ানমারের সেই ভয়াবহ কম্পনের রেশ বা ‘আফটারশক’ পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে অনুভূত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক যোগ ও ক্ষয়ক্ষতি একই দিনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একাধিক কম্পনের খবর মিলেছে। বাংলাদেশ এবং মায়ানমারের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়াতেও পৃথক একটি ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে। এই ভৌগোলিক বিপর্যয়ের পিছনে কোনও গভীর সংযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই ভূবিজ্ঞানীদের মধ্যে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে স্বস্তির খবর এই যে, কলকাতা বা দক্ষিণবঙ্গের কোথাও এখনও পর্যন্ত বড়সড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর মেলেনি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কম্পনের রেশ কাটতেই পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হলেও, পর পর এই কম্পনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—প্রকৃতি কি তবে বড় কোনও মহাপ্রলয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে?