কেজরিওয়াল-সিসোদিয়ার জয়, ব্যাকফুটে বিজেপি! আবগারি মামলায় আদালতের রায়ে ‘অক্সিজেন’ পেল তৃণমূল

দিল্লির বহুল চর্চিত আবগারি দুর্নীতি মামলায় বড়সড় মোড়। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়াকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত। সিবিআই-এর চার্জশিট গ্রহণ করতে অস্বীকার করে আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ের পরেই দেশজুড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী শিবির। বাদ যায়নি তৃণমূল কংগ্রেসও। শুক্রবার আদালতের রায়ের পরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল অভিযোগ করেছে, বিরোধী নেতাদের রাজনৈতিকভাবে খতম করতেই সিবিআই এবং ইডি-র মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ‘হাতিয়ার’ বানাচ্ছে মোদী সরকার।

তৃণমূল সাংসদ সাকেত গোখলে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনাকে বিজেপির ‘নির্লজ্জ কৌশল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, বিরোধী নেতাদের মনোবল ভাঙতে এবং জনসমক্ষে তাঁদের সম্মানহানি করতেই এই ভুয়ো মামলা সাজানো হয়েছিল। তিনি কড়া সুরে বলেন, “এই সাজানো মামলাগুলোর মতোই মোদী-শাহ সরকার খুব শীঘ্রই ভেঙে পড়বে।” অন্যদিকে, তৃণমূলের আরেক লড়াকু সাংসদ মহুয়া মৈত্রও সোচ্চার হয়েছেন এই ইস্যুতে। তিনি লেখেন, “সত্যমেব জয়তে! সত্যের সামনে তদন্তকারী সংস্থাগুলি যে নিছকই পুতুল, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। বিজেপি এবার শিক্ষা নিক।”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই রায় তৃণমূলের হাতে মস্ত বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার তুলে দিল। রাজ্যেও নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে রেশন দুর্নীতির মামলায় তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট নেতা কেন্দ্রীয় সংস্থার জালে। সেই আবহে দিল্লির আদালতের এই রায়কে সামনে রেখে ‘কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার’ তত্ত্বকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চাইছেন মমতা-অভিষেকরা। দিল্লির এই ‘ক্লিনচিট’ যে বাংলার নির্বাচনী ময়দানেও উত্তাপ বাড়াবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।