দোলের দিন বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ! রঙের উৎসবে বড় বিপত্তি? জেনে নিন সঠিক তারিখ ও সম

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের অন্যতম সেরা উৎসব হলো দোলপূর্ণিমা বা বসন্ত উৎসব। তবে ২০২৬ সালের দোল উৎসব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ, আগামী ৩ মার্চ বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ হতে চলেছে। জ্যোতিষশাস্ত্র এবং জ্যোতির্বিদ্যা— উভয় দিক থেকেই এই ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গ্রহণের প্রভাবে এবার রঙের উৎসবের নির্ঘণ্টে কিছুটা পরিবর্তন আসছে।
লখনউয়ের বিশিষ্ট জ্যোতিষী উমাশঙ্কর মিশ্র জানিয়েছেন, ৩ মার্চ চন্দ্রগ্রহণ থাকায় ওই দিন রঙের উৎসব পালন করা শাস্ত্রসম্মত হবে না। দোল পূর্ণিমার শুক্লা তিথি শুরু হচ্ছে ২ মার্চ সোমবার বিকেল ৫:৩৩ মিনিটে এবং শেষ হচ্ছে ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিকেল ৪:৪৬ মিনিটে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, ৩ মার্চ দুপুর ৩:২০ মিনিটে গ্রহণ শুরু হয়ে চলবে সন্ধ্যা ৬:৪৭ মিনিট পর্যন্ত। তবে গ্রহণের ‘সূতক কাল’ শুরু হয়ে যাবে ওই দিন সকাল ৬:২০ মিনিট থেকেই। হিন্দু শাস্ত্র মতে, গ্রহণের সূতক চলাকালীন কোনো শুভ কাজ বা পূজাপাঠ করা অশুভ বলে গণ্য হয়। তাই রঙের উৎসব বা দোল পালিত হবে ৪ মার্চ, বুধবার।
অন্যদিকে, উত্তর ভারতে প্রচলিত ‘হোলিকা দহন’ নিয়ে জ্যোতিষীদের মত হলো, যেহেতু ৩ মার্চ সারা দিন গ্রহণ ও সূতকের ছায়া থাকবে, তাই ২ মার্চ রাতেই হোলিকা দহন সেরে ফেলা উচিত। ৪ মার্চ পূর্ব ফাল্গুনী ও উত্তর ফাল্গুনী নক্ষত্রের শুভ সংযোগে নির্ভয়ে দোল খেলা যাবে। জ্যোতিষীরা আরও জানাচ্ছেন, এই গ্রহণ সিংহ রাশি ও পূর্ব ফাল্গুনী নক্ষত্রে ঘটছে। ফলে সিংহ রাশির জাতকদের স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। এ ছাড়াও মেষ, কর্কট, বৃশ্চিক ও মীন রাশির জাতকদের আর্থিক লেনদেন ও পারিবারিক বিবাদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গ্রহণ শেষে স্নান সেরে ঘরদোরে গঙ্গাজল ছেটানো এবং দানধ্যান করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।