সাড়ে তিন বছর পর জেলমুক্তি, নিয়োগ দুর্নীতিতে জামিন শান্তি প্রসাদ সিনহার! তবে মানতে হবে কড়া শর্ত

রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরের জেল জীবনের অবসান হতে চলেছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) প্রাক্তন উপদেষ্টা শান্তি প্রসাদ সিনহার। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে। ২০২২ সালের ১০ আগস্ট কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই তাঁকে গ্রেফতার করেছিল। এরপর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও (ED) তাঁকে হেফাজতে নেয়। সিবিআই মামলায় আগেই জামিন পেলেও ইডির মামলায় আটকে ছিলেন তিনি। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর এজলাসে ৫ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে অবশেষে মিলল সেই বহুপ্রতিক্ষিত মুক্তি।
তবে জামিন দিলেও শান্তি প্রসাদ সিনহার ওপর একগুচ্ছ কড়া শর্ত আরোপ করেছে উচ্চ আদালত। বিচারপতির নির্দেশ অনুযায়ী, তিনি নিজের এলাকার বাইরে বেরোতে পারবেন না। তাঁকে অবিলম্বে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে এবং দুটি সচল ফোন নম্বর তদন্তকারী অফিসার ও আদালতকে দিতে হবে। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তিনি কোনওভাবেই এই মামলার সাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বা তাঁদের প্রভাবিত করতে পারবেন না। যদি মামলার কোনও তথ্য বা নথি বিকৃত করার চেষ্টা করা হয়, তবে তৎক্ষণাৎ তাঁর জামিন বাতিল করা হবে। পাশাপাশি নিম্ন আদালতকে এই বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারপতি।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে মানিক ভট্টাচার্য—তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট নেতা ও পর্ষদ কর্তারা গত কয়েক মাসে একে একে জামিন পেয়েছেন। পার্থ চট্টোপাধ্যায় তো জেল থেকে বেরিয়ে আসন্ন নির্বাচনে সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। সেই তালিকায় এবার নবতম সংযোজন শান্তি প্রসাদ সিনহা। যদিও নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা এখনও তুঙ্গে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিরোধীরা যখন দুর্নীতিকে অস্ত্র করতে চাইছে, তখন শাসক দল এই অভিযুক্তদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার কৌশল নিয়েছে। শান্তি প্রসাদের জেলমুক্তি সেই রাজনৈতিক লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করল।