‘৩টি গাঁট বাঁধতেই বুক কেঁপেছিল’, ৭ বছর আগের সেই ভয়ই আজ সত্যি হলো বিজয়-রশ্মিকার জীবনে!

রাজস্থানের লেক সিটি উদয়পুরে রূপকথার আমেজে চার হাত এক হলো দক্ষিণি সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় জুটি রশ্মিকা মন্দানা ও বিজয় দেবরকোন্ডার। ২৬ ফেব্রুয়ারি ঘনিষ্ঠ বৃত্তে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন এই তারকা দম্পতি। তবে এই বাস্তব জীবনের পরিণয়ের নেপথ্যে লুকিয়ে আছে সাত বছর আগের এক অদ্ভুত কাকতালীয় ঘটনা। ২০১৮ সালে ‘গীত গোবিন্দম’ ছবির শুটিং চলাকালীন পর্দার যে আচার পালন করতে গিয়ে বিজয় ভয় পেয়েছিলেন, ২০২৬-এ এসে সেই রশ্মিকাই হলেন তাঁর জীবনসঙ্গিনী।
২০১৮ সালে বক্স অফিস কাঁপানো ছবি ‘গীত গোবিন্দম’-এর ‘ভাঞ্চিন্দাম্মা’ গানের একটি দৃশ্যে রশ্মিকার গলায় মঙ্গলসূত্র পরানোর কথা ছিল বিজয়ের। ছবির প্রোমোশনে বিজয় একবার স্বীকার করেছিলেন, সেই দৃশ্যটি তাঁকে ভীষণ অস্বস্তিতে ফেলেছিল। বিজয় জানিয়েছিলেন, মণ্ডপে বসা পর্যন্ত সব ঠিক থাকলেও, যখন পরিচালক তাঁকে সত্যিই তিনটি গাঁট বাঁধতে বলেন, তখন তাঁর হাত কাঁপছিল। যদিও সেটি ছিল নিখাদ অভিনয়, কিন্তু কনের সাজে রশ্মিকা আর চারপাশের বিয়ের আয়োজন সবকিছুই বিজয়ের কাছে এতটাই জীবন্ত মনে হয়েছিল যে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। মজা করে তিনি রশ্মিকাকে বলেছিলেন, “বিষয়টা খুব অদ্ভুত লাগছে।” অথচ রশ্মিকা ছিলেন একেবারেই শান্ত, কারণ ততদিনে পর্দায় তিনবার কনে সাজা হয়ে গিয়েছিল তাঁর!
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই পর্দার অস্বস্তি বদলে গেছে গভীর ভালোবাসায়। বন্ধুত্ব থেকে শুরু হওয়া এই সম্পর্কের রসায়ন ভক্তদের নজর কেড়েছিল বহু আগেই। ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাঁদের বাগদান সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছিল বিয়ের দিনক্ষণ গোনা। অবশেষে ২০২৬-এর ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল।
বিয়ের পর নবদম্পতি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন তাঁদের আবেগঘন মুহূর্ত। রশ্মিকা তাঁর স্বামীর ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, “পরিচয় করিয়ে দিই আমার স্বামীর সঙ্গে! এই মানুষটিই আমাকে শিখিয়েছেন প্রকৃত ভালোবাসা কী এবং শান্তি বলতে ঠিক কী বোঝায়।” অন্যদিকে বিজয় তাঁর আবেগকে ধরে রাখতে না পেরে লিখেছেন, “আমি আমার সেরা বন্ধুকেই স্ত্রী হিসেবে পেলাম। ২৬.০২.২০২৬।” বিজয় আরও জানান, একটি বিশেষ মুহূর্তে তিনি রশ্মিকাকে তীব্রভাবে মিস করতে শুরু করেছিলেন এবং বুঝতে পেরেছিলেন রশ্মিকা পাশে থাকলেই তাঁর জীবন পূর্ণ হবে।
রাজস্থানের আভিজাত্য আর দুই পরিবারের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হওয়া এই বিয়েতে টলিউড ও বলিউডের একাধিক তারকা উপস্থিত ছিলেন। সাত বছর আগে পর্দার যে বাঁধনকে বিজয় ‘অদ্ভুত’ বলে ভয় পেয়েছিলেন, আজ সেই বাঁধনই তাঁর জীবনের সবচেয়ে সুন্দর এবং বাস্তব সত্য। ভক্তরা বলছেন, বিজয়-রশ্মিকার এই যাত্রা যেন কোনো সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়েও বেশি রোমাঞ্চকর।