“ভাতা নয়, চাই শ্রমিকের মর্যাদা!”-১০ লক্ষ গৃহপরিচারিকার ক্ষোভে কাঁপছে বাংলা, বিপাকে সরকার?

ভোর হয় তাঁদের হাত ধরে। বাসন মাজা, কাপড় কাচা আর রান্নাঘরের ঝক্কি সামলাতে সামলাতে রাত গড়িয়ে যায়। কিন্তু দিনশেষে তাঁদের পরিচয় কেবলই ‘কাজের লোক’। রাজ্যে প্রায় ১০ লক্ষ গৃহপরিচারক-পরিচারিকা থাকলেও, স্বাধীনতার এত বছর পরেও মেলেনি শ্রমিকের স্বীকৃতি। ভোটের মুখে এবার সেই ‘অদৃশ্য’ শ্রমশক্তির পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আছড়ে পড়ছে রাজপথে।

বাজেটে বঞ্চনা, ক্ষোভের আগুন: সাম্প্রতিক রাজ্য বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বাড়ানো বা বেকার যুবকদের জন্য ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ঘোষণা থাকলেও ব্রাত্যই থেকে গিয়েছেন গৃহশ্রমিকরা। শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, রাজ্য শ্রম দফতর আইনি স্বীকৃতির আশ্বাস দিলেও তা আজও ফাইলবন্দি। ডানলপের রিনা মণ্ডল বা কসবার মালতী বসাকদের মতো হাজার হাজার মহিলার প্রশ্ন— “আমাদের জন্য কি কোনো স্থায়ী সমাধান নেই? শুধু ভাতার দয়ায় আর কতদিন চলবে?”

টানাটানির সংসার, ন্যায্য মজুরির হাহাকার: রিনা মণ্ডলের মতো অনেকেই ৬-৭টি বাড়িতে কাজ করেও দিনশেষে সামান্য কয়েকশো টাকাই হাতে পান। তাঁদের দাবি, দিল্লি বা কেরল যদি গৃহশ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি আইন কার্যকর করতে পারে, তবে পশ্চিমবঙ্গ কেন পিছিয়ে?

সারা বাংলা পরিচারিকা সমিতির প্রধান দাবিগুলি:

  • আইনি স্বীকৃতি: গৃহশ্রমিকদের ‘ন্যূনতম মজুরি আইন (১৯৪৮)’ এর আওতায় আনতে হবে।

  • মজুরি কাঠামো: প্রতি ঘণ্টায় ন্যূনতম ৭৫ টাকা পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা।

  • সামাজিক সুরক্ষা: প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) এবং বিমার সুবিধা প্রদান।

  • ছুটির অধিকার: মাসে অন্তত চার দিন সবেতন ছুটি।

ভোটের ময়দানে নয়া সমীকরণ: বাম আমল থেকে শুরু হওয়া এই লড়াই এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। সিপিএম, এসইউসিআই-এর মতো দলগুলো এই দাবিকে সমর্থন জানালেও অনেক সংগঠনেরই অভিযোগ, তাঁদের রেজিস্ট্রেশন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের নারীদের বৃহত্তম এই কর্মক্ষেত্রটি এখন আর কেবল ‘ভাতা’ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে নারাজ। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ১০ লক্ষ গৃহশ্রমিকের এই দাবি শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।