SIR তালিকা প্রকাশের ২৪ ঘণ্টা আগে রণক্ষেত্র সুপ্রিম কোর্ট! কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন কপিল সিব্বল

বাংলায় বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন প্রক্রিয়া বা SIR-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আর মাত্র একদিন বাকি। কিন্তু তার ঠিক আগের মুহূর্তেই আইনি লড়াই পৌঁছে গেল চরমে। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে সরব হলো রাজ্য সরকার। জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ থেকে শুরু করে ডমিসাইল সার্টিফিকেট—একাধিক ইস্যুতে এদিন শীর্ষ আদালতে তীব্র বাদানুবাদ চলে।
সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের অভিযোগ:
এদিন রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল অভিযোগ করেন, SIR প্রক্রিয়া তদারকির জন্য যে জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ করা হচ্ছে, তাতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কোনও মতামত নেওয়া হচ্ছে না। কমিশন নিজের মর্জিমতো নির্দেশিকা জারি করছে বলে তিনি দাবি করেন। সিব্বলের আরও অভিযোগ, “পিছনের দরজা দিয়ে” জুডিশিয়াল অফিসারদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে কমিশন এবং কোন নথি গ্রহণ করা হবে সে বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ:
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। রাজ্যের অভিযোগ শুনে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানান, “জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়ে সন্দেহ করা ঠিক নয়। এবার এই মামলার নিষ্পত্তি হওয়া দরকার।” বেঞ্চে থাকা বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি আরও কড়া সুরে বলেন, কমিশন ছাড়া আর কে প্রশিক্ষণ দেবে? আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কোন নথি গ্রাহ্য হবে তা আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে এবং তা মানতেই হবে।
ডমিসাইল সার্টিফিকেট ও ভোটাধিকার বিতর্ক:
সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে ডমিসাইল সার্টিফিকেট নিয়ে। সিব্বল অভিযোগ করেন, কমিশন এখন বলছে এই নথি নেওয়া হবে না। এর জবাবে বিচারপতি বাগচি জানান, যদি আদালতের নির্দেশে ওই নথি নেওয়ার কথা থাকে, তবে তা অবশ্যই দেখতে হবে। শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। অন্যদিকে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মানুষের ভোটাধিকার আদৌ থাকবে কি না, সেটাই এখনও স্পষ্ট নয়। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের ঠিক আগে এই আইনি মোড় রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।