“পেনশন নেই, গ্র্যাচুইটিও নেই”, মমতার চাকরির ঘোষণাকে ‘হাফ দাড়ি কাটা’র সঙ্গে তুলনা শুভেন্দুর!

বাংলার ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন বা SIR-এর জেরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্নে আয়োজিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্থির হয়েছে, SIR প্রক্রিয়ার কারণে যে ৫৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, বাংলার এই SIR পর্ব ঘিরে গত কয়েক মাস ধরেই রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। একটি আত্মহত্যার ঘটনা দিয়ে শুরু হওয়া এই মৃত্যুমিছিল শেষ পর্যন্ত ৫৬-তে গিয়ে ঠেকে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ভয় এবং আইনি জটিলতার আতঙ্কই এই অকাল মৃত্যুর কারণ। এবার সেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষতে প্রলেপ দিতে তাঁদের একজনকে ‘হোম গার্ড’ পদে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। শুধু মৃতদের পরিবারই নয়, নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ ও চরম হয়রানির শিকার হওয়া আরও ৫টি পরিবারকেও এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। জেলাভিত্তিক তালিকা ইতিমধ্যেই প্রস্তুত এবং দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সূত্রের খবর।

তবে সরকারের এই পদক্ষেপে খামতি খুঁজে পেয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এই চাকরির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নবান্নকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। শুভেন্দুর মতে, হোম গার্ডের চাকরি ‘অনিশ্চয়তাপূর্ণ’ এবং একে তিনি ‘হাফ দাড়ি কাটা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর দাবি, এই পদে সম্মানজনক বেতন নেই, নেই পেনশন বা গ্র্যাচুইটির সুবিধা। প্রতি বছর চাকরি রিনিউ করতে হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে তা করাও হয় না। ১৫ হাজার সিভিক ভলান্টিয়ারের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, এই ধরনের নিয়োগ আসলে কর্মসংস্থানের নামে প্রহসন। একদিকে নবান্নের ‘সহমর্মিতা’, অন্যদিকে বিরোধীদের ‘বাস্তবতা’—সব মিলিয়ে SIR ইস্যুতে ফের উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি।