খুন করে পুঁতে দেওয়া হয় এক্সপ্রেসওয়ের নিচে! ৬ বছর পর উদ্ধার শিশুর কঙ্কাল, খুনি খোদ নিজের কাকা-কাকিমা!

দীর্ঘ ছয় বছরের প্রতীক্ষা শেষ হলো এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে। রাজস্থানের দৌসার বাসিন্দা ৪ বছরের বালক প্রিন্স ওরফে তিল্লু, যে ৬ বছর আগে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল, তাকে নৃশংসভাবে খুন করেছে তার নিজেরই কাকা ও কাকিমা। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে শিউরে ওঠার মতো তথ্য—২০২০ সালেই শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে খুন করে দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়ের ধারে প্রায় ৩০ ফুট মাটির নিচে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল।
২০২০ সালের ১৬ অগস্ট বাগান থেকে খেলার সময় নিখোঁজ হয় তিল্লু। পরিবারের দায়ের করা হেবিয়াস কর্পাস মামলার ভিত্তিতে রাজস্থান হাইকোর্টের কড়া নির্দেশে তদন্তে গতি আনে পুলিশ। একের পর এক ৭ জন তদন্তকারী অফিসার বদল হওয়ার পর অবশেষে রহস্যের জট খোলে। পুলিশ জানতে পারে, পারিবারিক প্রতিহিংসার জেরেই তিল্লুর কাকা অনিল এবং কাকিমা কৃষ্ণা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পর তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে। তিল্লুর দেহের অবশিষ্টাংশ খুঁজে বের করতে দিল্লি থেকে আনা হয়েছে অত্যাধুনিক ‘গ্রাউন্ড পেনেট্রেশন রাডার’ (GPR) মেশিন। মাটির ৯ মিটার গভীরে লাশের অস্তিত্ব মেলায় গত তিন দিন ধরে দুটি জেসিবি দিয়ে অবিরাম খননকার্য চলছে।
তিল্লুর বড় বোন কান্নায় ভেঙে পড়ে জানিয়েছেন, নিখোঁজ হওয়ার পর এই কাকা-কাকিমাই তিল্লুকে খোঁজার নাটক করেছিল। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে গত ২১ ফেব্রুয়ারি দুবাই থেকে দেশে ফিরেছেন বাবা জগমোহন বাইরওয়া। তিনি বলেন, “ছেলের নিথর দেহটুকু পেলেও আমি শান্তি পাব।” যে বাগানের নিম গাছটির সঙ্গে বড় হওয়ার কথা ছিল তিল্লুর, আজ সেই বাগানে শুধুই হাহাকার। অভিযুক্তদের ১ মার্চ পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত।