রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তান-আফগানিস্তান! ১৩৩ তালিবান খতম না কি ৫৫ পাক সেনার মৃত্যু? ডুরান্ড লাইনে চরম উত্তেজনা!

বিতর্কিত ডুরান্ড লাইনকে কেন্দ্র করে এবার পুরোদস্তুর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। গত ২৪ ঘণ্টায় দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত সংঘাত এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, যাকে খোদ পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ‘যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছেন। শুক্রবার তালিবান সরকারের বিরুদ্ধে রণহুঙ্কার দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, পাকিস্তানের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে এবং এখন লড়াই ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।
পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি অনুযায়ী, সীমান্তে তালিবানি আগ্রাসনের জবাবে তারা ‘গাজাব লিল হক’ নামে এক বিশাল সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানে ১৩০ জনেরও বেশি তালিবান যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি ইসলামাবাদের। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, কাবুল, পাকতিয়া এবং কান্দাহারের মতো কৌশলগত এলাকায় ২৭টি তালিবান পোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে এবং ৯টি দখল করেছে পাক সেনা।
পাল্টা লড়াইয়ে নেমেছে আফগান তালিবানও। কাবুলের দাবি, তাদের হামলায় অন্তত ৫৫ জন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, বৃহস্পতিবার রাতে শুরু হওয়া এই পাল্টা অভিযানে তারা পাকিস্তানের ২টি সামরিক ঘাঁটি এবং ১৯টি পোস্ট দখল করে নিয়েছে। তালিবানদের অভিযোগ, পাক বাহিনী প্রথমে আফগান ভূখণ্ডে ঢুকে নারী ও শিশুদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালিয়েছিল, যার যোগ্য জবাব দেওয়া হচ্ছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন খাজা আসিফ। তিনি অভিযোগ করেন, তালিবানরা আফগানিস্তানকে কার্যত “ভারতের উপনিবেশে” পরিণত করেছে এবং সেখান থেকে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ রপ্তানি করা হচ্ছে। ডুরান্ড লাইন বরাবর ২৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তে এখন ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও ট্যাঙ্কের লড়াই চলছে। দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে সীমান্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ আনায় দক্ষিণ এশিয়ায় বড়সড় যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।