ভোটার তালিকায় ১.২০ কোটি ভুয়ো নাম? চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগেই মমতাকে তীব্র আক্রমণ দিলীপের!

রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আর মাত্র ২৪ ঘণ্টা বাকি। ঠিক তার আগেই বঙ্গ রাজনীতিতে পারদ চড়ালেন বিজেপি-র প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা বর্ষীয়ান নেতা দিলীপ ঘোষ। ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্বেগকে সরাসরি ‘ভয়’ এবং ‘আতঙ্ক’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। দিলীপ ঘোষের দাবি, এই সংশোধনীর ফলে বিপুল সংখ্যক ভুয়ো নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় ঘুম উড়েছে শাসক শিবিরের।
শুক্রবার সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে দিলীপ ঘোষ রীতিমতো বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন যখনই SIR প্রক্রিয়া ঘোষণা করেছে, তখনই মুখ্যমন্ত্রী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এই আতঙ্ক আজও বিদ্যমান। তিনি এই প্রক্রিয়া রুখতে হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত দৌড়েছেন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আজ তিনি নিজেই স্বীকার করে নিচ্ছেন যে ১.২০ কোটি নাম বাদ যেতে পারে। আসলে এই নামগুলো পরিকল্পিতভাবে তালিকায় ঢোকানো হয়েছিল বলেই আজ ওঁর এতো দুশ্চিন্তা।”
প্রসঙ্গত, চলতি সপ্তাহেই ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, এই প্রক্রিয়ার মারফত প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হতে পারে। একে ‘গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে, এটি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ধর্মের বিষয় নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের অধিকারের প্রশ্ন।
অন্যদিকে, ভোটার তালিকায় বিপুল সংখ্যক অসঙ্গতি বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ নিয়ে আইনি লড়াই গড়িয়েছে শীর্ষ আদালত পর্যন্ত। প্রায় ৫০ লক্ষেরও বেশি অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য কলকাতা হাইকোর্টকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, ২৫০ জন বিচারক নিয়োগ করেও এই কাজ সম্পন্ন করতে প্রায় ৮০ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে। দিলীপ ঘোষের দাবি, এই বিপুল সংখ্যক ‘অসঙ্গতি’ প্রমাণ করে যে গত কয়েক বছরে ভোটার তালিকায় কী ধরনের কারচুপি করা হয়েছে। আগামীকাল চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।