কোটি টাকার খাসির মাংস সাবাড়! পেট ভরছে না কুনোর চিতাদের, শিকারের খোঁজে এবার হানা লোকালয়ে!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্নের ‘প্রজেক্ট চিতা’ নিয়ে এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। মধ্যপ্রদেশের কুনো ন্যাশনাল পার্কে থাকা ৩২টি চিতার রক্ষণাবেক্ষণ ও খাবারের খরচ নিয়ে বিধানসভায় প্রশ্নের মুখে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। জানা গিয়েছে, গত এক বছরে শুধুমাত্র এই চিতাদের খাসির মাংস খাওয়াতেই খরচ হয়েছে ১ কোটি ২৭ লক্ষ টাকারও বেশি। কিন্তু এত বিপুল খরচের পরও চিতাদের ‘খাদ্যসংকট’ নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।

বিপুল খরচ, নেই কেন্দ্রীয় বরাদ্দ: কংগ্রেস বিধায়ক মুকেশ মালহোত্রার প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, চিতাদের খাবারের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার আলাদা করে কোনো বাজেট বরাদ্দ করেনি। তবে চিকিৎসা ও পরিচর্যার বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ দিয়েই চিতাগুলির জন্য খাসির মাংস কেনা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই খাতে ১ কোটি ২৭ লক্ষ ১০ হাজার ৮৭০ টাকা ব্যয় হয়েছে। এ পর্যন্ত চিতা প্রজেক্টের পেছনে সব মিলিয়ে ১০০ কোটিরও বেশি অর্থ খরচ হয়েছে বলে দাবি বিরোধীদের।

খাবারের খোঁজে লোকালয়ে হানা: অভিযোগ উঠেছে, জাতীয় উদ্যানের ভেতর পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক শিকার না পেয়ে চিতাগুলি বারবার লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। গোয়ালিয়র, শিবপুরী ও রাজস্থানের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে ঢুকে পোষা গবাদি পশু শিকার করছে তারা। বিষয়টি কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীও। গত ৬ ডিসেম্বর একটি চিতা জাতীয় সড়ক পার হতে গিয়ে পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়, যা এই প্রজেক্টের নিরাপত্তা ও পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

প্রজেক্ট কি তবে ব্যর্থ? বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ অজয় দুবের মতে, এই চিতা প্রজেক্ট আসলে একটি বড় ব্যর্থতা। বিদেশ থেকে আনা চিতাগুলিকে মুক্ত অরণ্যে রাখার কথা থাকলেও তারা এখন কার্যত বন্দি। বন্য পরিবেশের বদলে কোটি কোটি টাকার কেনা মাংসের ওপর তাদের নির্ভরশীল করে তোলা হচ্ছে, যা প্রজেক্টের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।