‘হিন্দু ধর্ম নিলে তবেই ঠাঁই’, ২০ বছর পর দেখা হয়েও গর্ভধারিণী মাকে ফেরাল পাষণ্ড ছেলে!

কুড়ি বছর আগে হারিয়ে গিয়েছিলেন। স্মৃতিশক্তি হারানো বৃদ্ধার জীবন কাটছিল কলকাতার এক হোমে। দীর্ঘ দুই দশক পর প্রযুক্তির কল্যাণে খুঁজে পাওয়া গেল পরিবারকে। ভিডিও কলে দেখা হলো মায়ের সঙ্গে ছেলের। কিন্তু মিলনের এই আবেগঘন মুহূর্তে প্রাচীর হয়ে দাঁড়াল ‘ধর্ম’। জন্মদাত্রী মাকে বাড়িতে জায়গা দেওয়ার আগে ছেলে শর্ত দিলেন— “হিন্দু ধর্ম গ্রহণ কর, তবেই ফিরতে পারবে।” ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা সুশীলা মুর্মুর এই মর্মান্তিক কাহিনী শুনে স্তম্ভিত তিলোত্তমা।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, সুশীলাদেবী ঝাড়খণ্ডের এক হিন্দু ব্যক্তিকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের আগেই তিনি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর শুরু হয় বিপর্যয়। অভিযোগ, সুশীলাদেবী খ্রিস্টান হওয়ার কারণে গ্রামের মোড়লরা তাঁকে গ্রামছাড়া করেন। এরপর ভবঘুরের মতো ঘুরতে ঘুরতে স্মৃতি হারিয়ে ২০০১ সালে তিনি কলকাতা পৌঁছান। মিশনারিজ অফ চ্যারিটি তাঁকে উদ্ধার করে একটি হোমে ঠাঁই দেয়। বছর খানেক আগে এক রেডিও ক্লাবের সদস্যের মাধ্যমে তাঁর ছবি ঝাড়খণ্ডের দাহুপাগড় গ্রামে পৌঁছালে খোঁজ মেলে তাঁর ছেলের।
ভিডিও কলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেই কথোপকথনে ছেলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সুশীলাদেবীকে ঘরে ফিরতে হলে নিজের ধর্ম ত্যাগ করে হিন্দু হতে হবে। কিন্তু অনড় মা। ৬২ বছরের সুশীলাদেবী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “ধর্ম ত্যাগ করতে পারব না, এটাই আমার শেষ উত্তর।” আপাতত পরিবারে ফেরার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ায় কলকাতার হোমেই দিন কাটছে তাঁর। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, ওই গ্রামে গিয়ে ছেলের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হবে। তবে ধর্মের বেড়াজালে জন্মদাত্রী মায়ের এই প্রত্যাখ্যান মানবিকতার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে।