কাঁপছে পাহাড়! ২০ দিনে ৫০ বার ভূমিকম্প সিকিমে, বৃহস্পতিবার জোড়া কম্পনে ত্রস্ত উত্তরবঙ্গ

প্রকৃতি কি বড় কোনো মহাপ্রলয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে? গত ২০ দিনে অন্তত ৫০ বার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল হিমালয়ের কোলের ছোট্ট রাজ্য সিকিম। বৃহস্পতিবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। এদিন দু-দুবার কম্পন অনুভূত হয়েছে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায়। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৪.৬। সিকিমের রাবাংলা ও গ্যালশিং-এর মাটির গভীরে তৈরি হওয়া এই কম্পন তছনছ করে দিয়েছে পাহাড়ের শান্তি। শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিংয়ের বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই সিকিমের ভূস্তর যেন শান্ত হতে চাইছে না। পরিসংখ্যান বলছে, এই ২০ দিনের মধ্যে ৩৯ বার বড় কম্পন এবং ছোট-বড় মিলিয়ে ৫০টিরও বেশি ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে। একদিনেই কখনও কখনও ১১ থেকে ১৩ বার কেঁপে উঠেছে মাটি। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি-র তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারের কম্পনের উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। এর ফলে গ্যাংটক এবং পেলিং-এর মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে কম্পনের তীব্রতা ছিল অনেক বেশি। কম্পন অনুভূত হয়েছে কলকাতাতেও।

বিশেষজ্ঞদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। তাঁরা এই ধারাবাহিক কম্পনকে ‘ফোর শক’ (Fore Shock) হিসেবে দেখছেন। অর্থাৎ, বড় কোনো ভূমিকম্পের আগে মাটির নিচে যখন ছোট ছোট অনেক কম্পন হয়, তাকেই বিজ্ঞানের ভাষায় ফোর শক বলা হয়। পাহাড়ের বর্তমান পরিস্থিতিতে পর্যটকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতেও ৪.৫ তীব্রতার ভূমিকম্পে কেঁপেছিল দার্জিলিং ও গ্যাংটক। কেন বারবার সিকিমেই কম্পন হচ্ছে, তা নিয়ে ভূবিজ্ঞানীরা নিবিড় গবেষণা শুরু করেছেন। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় এখন একটাই প্রশ্ন— এই আতঙ্ক থেকে মুক্তি কবে?