নাড়ির টানের কাছে হারল ধর্ম! ২৫ বছর পর অভিমান মুছে মাকে ঘরে ফেরাচ্ছে অনুতপ্ত ছেলে

অবশেষে জয় হলো মাতৃত্বের। ধর্ম আর সংস্কারের যে পাষাণ প্রাচীর মা ও ছেলের মহামিলনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল নাড়ির টানের কাছে। দীর্ঘ ২৫ বছর নিখোঁজ থাকার পর কলকাতার এক হোমে আশ্রিত বৃদ্ধা মায়ের খোঁজ পেয়েও স্রেফ ‘ধর্ম’ আলাদা হওয়ার কারণে তাঁকে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করেছিলেন ছেলে। কিন্তু ইটিভি ভারতের খবরের জেরে সেই ভুল বুঝতে পারলেন ঝাড়খণ্ডের গোড্ডার যুবক। চোখের জলে ক্ষমা চেয়ে জানালেন, “ভুল করেছি, মা যে ধর্মই পালন করুন—তিনি আমার মা, তাঁকে আমি সসম্মানে ঘরে ফেরাব।”
ঝাড়খণ্ডের গোড্ডার দাহুপগর গ্রামের বাসিন্দা ওই যুবক ও তাঁর স্ত্রী একটি ছোট মুদি দোকান চালান। অভাবের সংসার আর শিক্ষার অভাবে তিনি মনে করেছিলেন, হিন্দু পরিবারে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মাকে ফিরিয়ে আনলে হয়তো সমাজ মেনে নেবে না। কিন্তু ইটিভি ভারতের প্রতিনিধি তাঁর কাছে পৌঁছানোর পর নিজের ভুল উপলব্ধি করেন তিনি। হাসিমুখে ক্যামেরার সামনে তিনি বলেন, “আমি দরিদ্র হতে পারি, কিন্তু মায়ের মমতা তো অমূল্য। মা নিজের ইচ্ছেমতো যে কোনো ধর্ম পালন করতে পারেন, তাতে আমার আর কোনো আপত্তি নেই।”
অন্যদিকে, কলকাতার হোমে থাকা ৬২ বছরের ওই বৃদ্ধার চোখে এখন আনন্দের জল। ২৫ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর পরিস্থিতির চাপে ভিটেছাড়া হয়েছিলেন তিনি। পরে খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করেন। সম্প্রতি ভিডিও কলে ছেলের সঙ্গে কথা হলেও ছেলে শর্ত দিয়েছিলেন—ঘরে ফিরতে হলে ধর্ম ত্যাগ করতে হবে। সেই সময় নিজের আত্মসম্মানে অটল থেকে মা বলেছিলেন, “ধর্ম ছাড়ব না।” কিন্তু ছেলের নতুন সিদ্ধান্তে সব অভিমান ধুয়ে গিয়েছে বৃদ্ধার। ফোনে তিনি হাসতে হাসতে বলেন, “ছেলে ভুল বুঝেছে, এখন ও আমায় নিয়ে যাবে বলেছে। এই বয়সে নিজের রক্তকেই তো পাশে চাই।” খুব শীঘ্রই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে নিজের পুরনো ভিটেতে ফিরবেন এই বৃদ্ধা।