হাতে ককটেল, পাশে বিকিনি পরা সুন্দরী! প্রয়াত বিজ্ঞানীর ‘অপ্রীতিকর’ ছবি নিয়ে মুখ খুলল পরিবার

বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং কি জড়িয়ে ছিলেন কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের অন্ধকার জগতের সঙ্গে? সম্প্রতি ‘এপস্টিন ফাইলস’ থেকে ফাঁস হওয়া একটি ছবি এবং চাঞ্চল্যকর কিছু নথি ঘিরে এই প্রশ্নই এখন দানা বাঁধছে আন্তর্জাতিক মহলে। ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে, হুইলচেয়ারে বসে থাকা হকিংয়ের দু’পাশে রয়েছেন দুই স্বল্পবসনা তরুণী। তাঁদের হাতে পানীয়, আর হকিং রোদ পোহাচ্ছেন। এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই প্রয়াত বিজ্ঞানীর চরিত্র নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি ২০০৬ সালের। আমেরিকার সেন্ট টমাসের রিৎজ-কার্লটন হোটেলে আয়োজিত একটি সায়েন্স সিম্পোসিয়ামে যোগ দিতে গিয়েছিলেন হকিং। মার্কিন প্রশাসনের প্রকাশিত ৩৫ লক্ষ নথির তথ্য অনুযায়ী, যে ২১ জন বিজ্ঞানী এপস্টিনের কুখ্যাত প্রাইভেট দ্বীপ ‘লিটল সেন্ট জেমসে’ গিয়েছিলেন, সেই তালিকায় হকিংয়ের নামও ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ওই দ্বীপে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিনোদনের জন্য নাবালিকাদের ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হতো। নথিতে হকিংয়ের নাম অন্তত ২৫০ বার পাওয়া গিয়েছে। এমনকি এপস্টিনের কুকীর্তি ফাঁস করা ভার্জিনিয়া জিউফ্রেও হকিংয়ের নাম উল্লেখ করেছেন।
বিতর্ক তুঙ্গে উঠতেই হকিংয়ের পরিবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাঁদের দাবি, ছবিতে যে দুই তরুণীকে দেখা যাচ্ছে, তাঁরা আদতে হকিংয়ের দীর্ঘকালীন দেখভালের দায়িত্বে থাকা নার্স বা সহায়ক। পরিবার স্পষ্ট জানিয়েছে, হকিং ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মোটর নিউরন ডিজিসে (ALS) আক্রান্ত ছিলেন। তিনি নিজে নড়াচড়া করতে বা কথা বলতে পারতেন না, ২৪ ঘণ্টা ভেন্টিলেটর ও হুইলচেয়ারের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। এমন এক শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষের বিরুদ্ধে ‘আপত্তিকর আচরণের’ অভিযোগ তোলা কেবল ভুল নয়, বরং তা ‘চূড়ান্ত বাড়াবাড়ি’। বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ পদার্থবিদের অসামান্য অবদানকে কালিমালিপ্ত করার এই প্রচেষ্টাকে হকিং পরিবার দুর্ভাগ্যজনক বলে বর্ণনা করেছে।