বিজাপুরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ! নিকেশ ১০ লক্ষি মাওবাদী জুটি, উদ্ধার অত্যাধুনিক রাইফেলের স্তূপ

ছত্তিশগড়ের বিজাপুরে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী। জংলা থানা এলাকার জাগুর-দোদুম জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় এক ভয়াবহ এনকাউন্টারে খতম হয়েছে দুই দুর্ধর্ষ মাওবাদী ক্যাডার। মৃতদের নাম হিচামি মাড্ডা এবং মানকি পোডিয়াম। পুলিশ জানিয়েছে, এরা দুজনেই ভৈরমগড় এরিয়া কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিল এবং এদের প্রত্যেকের মাথার দাম ছিল ৫ লক্ষ টাকা করে। অর্থাৎ, এক অভিযানেই ১০ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষিত মাওবাদীদের নিকেশ করল বাহিনী।
বুধবার সন্ধ্যা থেকেই ডিআরজি, বাস্তার ফাইটারস, এসটিএফ, সিআরপিএফ এবং কোবরা বাহিনীর একটি যৌথ দল ইন্দ্রাবতী নদী সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে। বৃহস্পতিবার ভোর ছ’টা নাগাদ মাওবাদীদের সঙ্গে বাহিনীর মুখোমুখি সংঘর্ষ শুরু হয়। দীর্ঘক্ষণ দু-পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের পর পিছু হঠতে বাধ্য হয় মাওবাদীরা। তল্লাশি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুই মাওবাদীর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সেখান থেকে একটি এসএলআর রাইফেল, একটি ইনসাস রাইফেল, ১২ বোরের বন্দুক, দেশীয় গ্রেনেড ও প্রচুর পরিমাণ বিস্ফোরক ও ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। বিজাপুরের পুলিশ সুপার জিতেন্দ্র কুমার যাদব জানিয়েছেন, জঙ্গল জুড়ে এখনও চিরুনি তল্লাশি জারি রয়েছে।
অন্যদিকে, মাওবাদী শিবিরের অন্দরে চরম ফাটলের খবর সামনে এসেছে কান্ধামাল জেলা থেকে। দারিংবাড়ি থানার জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়েছে মাওবাদী নেতা অন্বেষের দেহ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অন্বেষ আত্মসমর্পণ করতে চেয়েছিলেন, আর সেই ‘অপরাধেই’ নিজের দলেরই সেকেন্ড ইনচার্জ সুকরু তাঁকে খুন করে জঙ্গলে পুঁতে রাখে। বস্তার রেঞ্জের আইজি সুন্দররাজ পট্টালিংম এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মাওবাদীদের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি মাও ক্যাডারদের হিংসার পথ ছেড়ে মূলধারায় ফেরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অস্ত্র ধরে কোনো লাভ নেই। সরকার আত্মসমর্পণকারীদের জন্য শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা দিচ্ছে।”