“১০ বছর পর ফের চর্চায় স্টিফেন হকিং!”-ককটেল হাতে উদ্দাম মুহূর্তের ছবি কি বিকৃত?

বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং কি তবে বিতর্কের জালে? সম্প্রতি নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ছবি এবং ‘এপস্টিন ফাইলস’-এর নথিপত্র ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দুই বিকিনি পরিহিত মহিলার মাঝে একটি আরামদায়ক চেয়ারে শুয়ে ককটেল উপভোগ করছেন হকিং। এই ছবি ঘিরেই এখন তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া।
এপস্টিন ফাইলস ও হকিং কানেকশন কুখ্যাত জেফরি এপস্টিনের যৌন কেলেঙ্কারির নথিতে স্টিফেন হকিংয়ের নাম ২৫০ বারের বেশি উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি স্টার’। অভিযোগ উঠেছে, হকিং নাকি এপস্টিনের কুখ্যাত ‘প্যাডো আইল্যান্ড’ বা লিটল সেন্ট জেমসে গিয়েছিলেন। এমনকি ২০১১ সালের একটি ইমেলে তাঁর বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যৌন কার্যকলাপে জড়িত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগও আনা হয়েছে।
ছবির আসল সত্য কী? ভাইরাল হওয়া ছবিটি নিয়ে উত্তাল নেটপাড়া হলেও, এর প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা বলে দাবি করছে হকিংয়ের পরিবার। তাঁদের মতে:
-
অবস্থান: ছবিটি ২০০৬ সালে ক্যারিবিয়ান দ্বীপ সেন্ট থমাসের রিটজ-কার্লটন হোটেলে তোলা।
-
প্রেক্ষাপট: সেখানে অধ্যাপক কোয়ান্টাম কসমোলজির ওপর একটি বক্তৃতা দিতে গিয়েছিলেন।
-
মহিলাদের পরিচয়: হকিংয়ের প্রতিনিধির দাবি, ছবিতে থাকা মহিলারা আসলে ব্রিটেনে দীর্ঘ সময় ধরে হকিংয়ের দেখভালের দায়িত্বে থাকা নার্স বা পরিচারিকা।
তদন্ত ও বিতর্ক নথিপত্রে দেখা গেছে, ২০০৬ সালে ২১ জন বিজ্ঞানীর একটি দলের সঙ্গে এপস্টিনের অর্থায়নে আয়োজিত একটি সম্মেলনে যোগ দিতে ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে গিয়েছিলেন হকিং। সেখানে তাঁকে সাবমেরিনে চড়তে এবং বারবিকিউ পার্টি করতেও দেখা গেছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগগুলিকে ‘চরম অবাস্তব’ এবং ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠ মহল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবিটি কি সত্যিই এপস্টিন দ্বীপের, নাকি স্রেফ একটি পারিবারিক ভ্রমণের মুহূর্ত? এই বিতর্ক এখন বিশ্বজুড়ে নেটিজেনদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।