ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেত ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম! কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মমতা

রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন ও এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে ফের রণংদেহি মেজাজে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার ভবানীপুরে জৈন সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তাঁর সক্রিয় হস্তক্ষেপ না থাকলে রাজ্য থেকে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা হতো।

ভবানীপুরের এই সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন ‘ছুপা রুস্তম’-এর মতো কাজ করছে। তাঁর কথায়, “সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিলেও এরা চুপিচুপি কাজ করছে। নাম বাদ দিতে চাইছে। আমি যদি রুখে না দাঁড়াতাম, তবে ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যেত।” মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, তাঁর কাছে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বড় নয়, বরং গণতন্ত্র রক্ষা করাই আসল লক্ষ্য।

আগামী ২৮ তারিখ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা। তার আগেই এই আশঙ্কা প্রকাশ করে মমতা বলেন, “২৮ তারিখ তালিকা বেরোলে অনেকেই হয়তো দুঃখ পাবেন। কিন্তু মনে রাখবেন, সত্যের জয় হবেই।” এদিন জৈন মঞ্চ থেকে মহাত্মা গান্ধীর অহিংসার বাণী স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্লোগান দেন— “জিও অউর জিনে দো” (বাঁচো এবং বাঁচতে দাও)।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনে শাসক দলের পক্ষ থেকে বারবার গরমিলের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই ইস্যুতে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এদিনের বক্তব্যে তিনি আবারও বুঝিয়ে দিলেন যে, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করতে তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন। অনুষ্ঠানের শেষে মানস স্তম্ভের সামনে প্রার্থনা করে তিনি বার্তা দেন, মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকলেই তিনি পুনরায় ফিরে আসবেন।