হাওড়াকাণ্ডে ধৃত ৩, কিন্তু কোথায় হারুন? বিধায়কের সঙ্গে ভিডিও ভাইরাল হতেই ঘনীভূত রহস্য!

হাওড়ার পিলখানায় ২৭ বছর বয়সী তরুণ প্রোমোটার সফিক খানকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুনের ঘটনায় এবার বড়সড় মোড়। ঘটনার তদন্তে নেমে জোড়াসাঁকোর এক গোপন আস্তানা থেকে ৩ জনকে গ্রেফতার করল গোলাবাড়ি থানার পুলিশ ও হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দারা। ধৃতরা হলো মহম্মদ বিলাল, মহম্মদ ওয়াকিল ওরফে মুন্না এবং দিলদার হোসেন। পুলিশ সূত্রে খবর, খুনের পর মূল অভিযুক্ত হারুন খান ও রোহিত হোসেন এই বিলালের আস্তানাতেই আশ্রয় নিয়েছিল। তবে মূল দুই ঘাতক এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে।
বিধায়কের ‘ছায়াসঙ্গী’ হারুন কেন অধরা?
সিসিটিভি ফুটেজে খুনের দৃশ্য স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও কেন ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর মূল দুই পান্ডা গ্রেফতার হলো না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এর মধ্যেই হাওড়া উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর বাইকের পিছনে বসা হারুন খানের ভিডিও এবং তাদের একসঙ্গে হাঁটার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠছে, শাসক ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণেই কি পুলিশ মূল অভিযুক্তদের ধরতে গড়িমসি করছে? যদিও বিধায়কের দাবি, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অনেকে পাশে হাঁটে, খুনের সঙ্গে এর কোনো যোগ নেই।
সাংবাদিকের রক্তে রাঙালো হাওড়া
এদিকে এই খুনের ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে এক নজিরবিহীন বর্বরতায় আক্রান্ত হলেন এবিপি আনন্দর সাংবাদিক ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী। যেখানে ডিসি (DC) এবং এসি (AC)-র নেতৃত্বে র্যাফ (RAF) টহল দিয়ে গিয়েছে, তার ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরেই সাংবাদিককে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে দুষ্কৃতীরা। হামলায় ফেটেছে কপাল, ভেঙেছে নাকের হাড়। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে— যখন সাংবাদিকের ওপর প্রাণঘাতী হামলা হচ্ছিল, তখন কোথায় ছিল পুলিশ?
তপ্ত পিলখানা: বিক্ষোভ ও অবরোধ
তরুণ প্রোমোটার খুনের পর থেকেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় পিলখানা। টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয়রা। মানুষের ক্ষোভের আগুন যেন দাউদাউ করে জ্বলছে। ভোটের মুখে এই ‘হাড়হিম’ করা হত্যাকাণ্ড এবং সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনা রাজ্য প্রশাসনকে এক বিশাল কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।