ভোটার তালিকায় বড়সড় বিভ্রাট? ২০০০ বিচারক নিয়ে নজিরবিহীন সংকটে কমিশন!

রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন ও তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে চরম প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মাঝেই বড়সড় জনবল সংকটের মুখে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোটার তালিকার নির্ভুল তথ্য যাচাই সম্পন্ন করতে প্রায় দুই হাজার বিচারক বা আধিকারিক প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে সেই লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কর্মীর সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য।
সময় বনাম লক্ষ্যমাত্রা: বাড়ছে উদ্বেগ
কমিশন জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ৫৩২ জন বিচারককে এই কাজে নিয়োগ করা হয়েছে এবং আরও নিয়োগের প্রক্রিয়া যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সময়ের সীমাবদ্ধতা। বর্তমানে হাতে থাকা আধিকারিকদের নিয়ে প্রায় ৬০ লক্ষ তথ্যের পাহাড় যাচাই করা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ছিল নথি আপলোড ও শুনানির অন্তিম দিন। তবে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে সমস্ত বকেয়া তথ্য বিচারকদের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কয়েক লক্ষ তথ্য যাচাই করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে বাড়ছে উৎকণ্ঠা।
বিএলও বিক্ষোভ ও পুলিশ কমিশনারের রিপোর্ট তলব
অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রস্তুতির মাঝেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে কলকাতায়। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে দেখে বিএলও-দের (BLO) বিক্ষোভ দেখানোর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে সিইও দফতর। এই অনভিপ্রেত ঘটনার প্রেক্ষিতে কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও বিশৃঙ্খলার বিষয়ে কমিশন যে কড়া অবস্থান নিচ্ছে, এই পদক্ষেপ তারই প্রমাণ।
আবাসন বা বহুতলে নতুন বুথ: জেলাভিত্তিক তালিকা
ভোটারদের সুবিধার্থে এবার বহুতল আবাসনগুলোতে বুথ তৈরির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে কমিশন। আগে রাজ্যে মাত্র ২১টি বহুতলে বুথ ছিল। এবার নতুন করে আরও ৫৭টি বহুতলে বুথ তৈরি করা হচ্ছে, যার ফলে মোট সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৭৮। মূলত যেখানে ৩০০-র বেশি ভোটার রয়েছেন, সেখানেই এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
এক নজরে নতুন বুথের জেলাভিত্তিক খতিয়ান:
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ২৫টি (সর্বোচ্চ)
উত্তর ২৪ পরগনা: ১৬টি
উত্তর কলকাতা: ৫টি
হাওড়া: ৪টি
হুগলি ও পূর্ব বর্ধমান: ৩টি করে
দক্ষিণ কলকাতা: ১টি
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বার্থে ভোটার তালিকা নির্ভুল করা তাদের প্রথম অগ্রাধিকার। এখন দেখার, বিচারক সংকট কাটিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ হয় কি না।