দিল্লিতে হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড! তিন মেয়ে ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে গলা কেটে খুন, কাঠগড়ায় পাষণ্ড স্বামী

উত্তর দিল্লির প্রেমচাঁদ পার্ক এলাকায় এক নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিউরে উঠেছে গোটা দেশ। নিজের তিন নাবালিকা কন্যা এবং দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে খুনের অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পুলিশি তদন্তে উঠে আসছে পুত্রসন্তানের প্রতি অন্ধ আকাঙ্ক্ষা অথবা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের তত্ত্ব। এই ঘটনায় কার্যত পাঁচটি প্রাণ অকালেই ঝরে গেল।

রক্তের সাগরে ভাসছিল বিছানা
বুধবার সকালে প্রেমচাঁদ পার্ক এলাকার একটি বাড়ি থেকে ২৭ বছর বয়সী অনিতা এবং তাঁর তিন শিশুকন্যার নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত শিশুদের বয়স যথাক্রমে ৩, ৪ এবং ৫ বছর। পুলিশ জানিয়েছে, মা ও তিন সন্তানকে বিছানার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তদন্তকারীদের মতে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের প্রত্যেকের গলা এমনভাবে কাটা হয়েছে যে শ্বাসনালী পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। অনিতা দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, ফলে এই হামলায় তাঁর গর্ভস্থ সন্তানেরও মৃত্যু হয়েছে।

পলাতক অভিযুক্ত স্বামী
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত অনিতার স্বামী মুনচুন কেওয়াত। ঘটনার পর থেকেই সে বেপাত্তা। পেশায় সবজি বিক্রেতা মুনচুন মূলত বিহারের পটনা জেলার বাসিন্দা। গত দুই বছর ধরে তাঁরা এই এলাকায় বসবাস করছিলেন। প্রতিবেশীদের দাবি, বাইরে থেকে দেখে তাঁদের মধ্যে বিশেষ বিবাদ চোখে পড়েনি। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পর পর তিন কন্যা সন্তান হওয়ার পর ফের অনিতা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় ক্ষোভ থেকেই এই খুন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া পরকীয়া সম্পর্কের দিকটিও উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর প্রাণঘাতী আক্রমণ চালানোর আগে মুনচুন তাঁদের কোনোভাবে নেশাগ্রস্ত করে অচৈতন্য করে দিয়েছিল। বুধবার সকালে আত্মীয় ও প্রতিবেশীরা প্রথম মৃতদেহগুলি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। ইতিমধ্যেই ক্রাইম অ্যান্ড ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (FSL) টিম ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে।

মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং একটি খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত মুনচুনকে ধরতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে দিল্লি পুলিশ। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “তদন্তের প্রাথমিক স্তরে একাধিক মোটিভ উঠে আসছে, তবে অভিযুক্ত ধরা পড়লে আসল সত্যিটা সামনে আসবে।”