বেকার যুবক-যুবতীদের পোয়াবারো! ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে আবেদনের সময়সীমা বাড়াচ্ছে নবান্ন, উপচে পড়ছে ভিড়

রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প ‘যুবসাথী’ নিয়ে বাংলাজুড়ে কার্যত তুঙ্গে উন্মাদনা। চলতি বছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ঘোষিত এই প্রকল্পে শুরুতেই ব্যাপক সাড়া মিলেছে। নবান্ন সূত্রে খবর, বিপুল চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই প্রকল্পে আবেদনের সময়সীমা আরও বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে রাজ্য সরকার। মূলত চাকরিপ্রার্থী তরুণ-তরুণীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা দিতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মাস্টারস্ট্রোক।
৯ দিনেই আবেদনের পাহাড়
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে যুবসাথী প্রকল্পে নাম নথিভুক্তিকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম ৯ দিনেই প্রায় ৭৭ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতী এই ভাতার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। আবেদনকারীর সংখ্যার নিরিখে জেলাভিত্তিক তালিকার শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। দ্বিতীয় স্থানে উত্তর ২৪ পরগনা এবং পরবর্তী তালিকায় রয়েছে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মতো জেলাগুলি। এই বিপুল চাপ সামাল দিতেই আবেদনের মেয়াদ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রশাসন।
কারা পাবেন এই ১৫০০ টাকা?
যুবসাথী প্রকল্পের অধীনে আবেদনকারীদের প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তবে এর জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে:
শিক্ষাগত যোগ্যতা: আবেদনকারীকে অবশ্যই মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
বয়সসীমা: প্রার্থীর বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হওয়া বাধ্যতামূলক।
অন্যান্য শর্ত: যারা ইতিমধ্যেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা ‘যুবশ্রী’র মতো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তারা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য নন। তবে পড়াশোনার জন্য কোনও স্কলারশিপ বা বৃত্তি পেলে তা বাধা হিসেবে গণ্য হবে না।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
আবেদন করার জন্য নিচের নথিগুলি প্রস্তুত রাখতে হবে:
১. মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড (বয়সের প্রমাণ হিসেবে)।
২. মাধ্যমিকের মার্কশিট বা সার্টিফিকেট।
৩. আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড।
৪. ব্যাঙ্কের পাসবুক বা ক্যানসেল চেক।
৫. জাতিগত শংসাপত্র (যদি থাকে)।
স্বনির্ভর বাংলা শিবির ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
বর্তমানে রাজ্যজুড়ে ‘স্বনির্ভর বাংলা শিবির’ চলছে, যেখানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে ভূমিহীন কৃষকদের প্রকল্পের জন্য প্রচুর আবেদন জমা পড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মূলত চাকরি খোঁজার সময় যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ সামাল দিতেই এই ১৫০০ টাকার অনুদান দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬-এর আগে এই প্রকল্প যে রাজ্যের বেকার তরুণ প্রজন্মের কাছে এক বড় অবলম্বন হতে চলেছে, তা প্রথম সপ্তাহের পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট।