খুনের মামলায় সাজা খাটছেন ১১ বছর, মেয়ের মাধ্যমিকের জন্য ‘প্যারোলে’ মুক্তি পেলেন বাবা!

খুনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামী। গত এগারো বছর ধরে চার দেওয়ালের অন্ধকারে কাটছে জীবন। কিন্তু মেয়ের জীবনের বড় পরীক্ষা—বোর্ডের দশম শ্রেণির পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষার কথা মাথায় রেখেই এক কয়েদি বাবাকে সাময়িক মুক্তির নির্দেশ দিল ওড়িশা হাই কোর্ট। আদালত জানাল, অপরাধী হলেও সন্তানের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা এবং এই বিশেষ সময়ে অভিভাবক হিসেবে পাশে থাকা জরুরি।

২০১০ সালের একটি খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন শ্রীনিবাস পাত্র। ২০২১ সাল থেকে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। সম্প্রতি ওড়িশা হাই কোর্টে তাঁর আইনজীবী আবেদন জানান, শ্রীনিবাসের মেয়ের দশম শ্রেণির পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বাড়ি থেকে পরীক্ষাকেন্দ্র ৫ কিলোমিটার দূরে। বাড়িতে বৃদ্ধ ঠাকুরদা-ঠাকুমা ছাড়া আর কেউ নেই, যাঁদের পক্ষে নাতনিকে প্রতিদিন যাতায়াতে সাহায্য করা সম্ভব। এই পরিস্থিতিতে মেয়ের নিরাপত্তা এবং পড়াশোনার পরিবেশ বজায় রাখতে বাবার উপস্থিতি প্রয়োজন।

বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি শোনার পর মানবিকতাকে আইনের উর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, শিক্ষা প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার এবং বোর্ড পরীক্ষার মতো সন্ধিক্ষণে বাবার উপস্থিতি ছাত্রীর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ১০ মার্চ পর্যন্ত জামিনে মুক্ত থাকতে পারবেন শ্রীনিবাস। তবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরদিনই তাঁকে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। জগৎসিংপুর জেলা ও দায়রা আদালতকে দ্রুত এই নির্দেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত আসামী হওয়া সত্ত্বেও এক ছাত্রীর ভবিষ্যতের কথা ভেবে আদালতের এই সংবেদনশীল রায়কে দেশজুড়ে সাধুবাদ জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।