বিছানায় যাওয়ার পর রাশিফলের বাহানা! ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে অপরাধীর, কড়া বার্তা আদালতের

প্রেমের সম্পর্কের পর ‘কুণ্ডলী’ বা ‘জন্মছক’ না মেলার অজুহাতে বিয়েতে অস্বীকার করা এখন আর স্রেফ ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং এটি একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এক চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানিতে এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল দিল্লি হাইকোর্ট। বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা সাফ জানিয়েছেন, যদি কেউ বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং পরে কুণ্ডলী মেলেনি বলে পিছিয়ে যান, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলাটির প্রেক্ষাপট দীর্ঘ আট বছরের সম্পর্কের। অভিযোগকারিণী তরুণীর দাবি, ২০১৮ সাল থেকে অভিযুক্ত যুবক তাঁকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আসছিলেন। এমনকি জ্যোতিষশাস্ত্রীয় কোনো বাধা আসবে না বলে আশ্বস্ত করেই তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু ২০২৫ সালের শেষ দিকে আচমকাই ‘কুণ্ডলী মিলছে না’ এই অজুহাত তুলে যুবকটি বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। এরপরই ঘটনার মোড় ঘোরে আদালতের চৌকাঠে।
দিল্লি হাইকোর্ট এই মামলার গুরুত্ব বিচার করে অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) নতুন ৬৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, প্রতারণা বা অসৎ উদ্দেশ্যে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। বিচারপতির মতে, যদি সম্পর্কের শুরু থেকেই যুবকের উদ্দেশ্য সৎ না থাকে এবং পরে তিনি কুণ্ডলীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন, তবে তাকে ‘সম্মতি’ বলা যায় না।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণ আইন মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিচারপতি স্পষ্ট করেছেন যে, সব ভেঙে যাওয়া সম্পর্কই অপরাধ নয়, কিন্তু যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাস বা কুসংস্কারকে প্রতারণার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়, সেখানে আইন কঠোর হবেই। চার্জশিট জমা না পড়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে হেফাজতেই রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রায় আগামী দিনে ‘ব বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’ সংক্রান্ত মামলাগুলিতে একটি শক্তিশালী নজির হয়ে থাকবে।