গাজায় যুদ্ধের মাঝেই ইজরায়েলে মোদী: “হত্যাকারী শাসনকে স্বীকৃতি,” বিস্ফোরক তোপ সিপিআই(এম)-এর

বিশ্ব রাজনীতির উত্তাল আবহে দু’দিনের ঐতিহাসিক সফরে ইজরায়েলে পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার তেল আবিবের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ আলিঙ্গনে স্বাগত জানান ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর স্ত্রী সারা। মোদীর এই সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে ব্যাখ্যা করেছে তেল আবিব। তবে দেশের মাটিতে এই সফর ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বিশেষ করে বামপন্থী দলগুলি এবং কংগ্রেস মোদীর এই ইজরায়েল নীতিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে।
সিপিআই(এম)-এর পলিট ব্যুরো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যখন গাজায় ‘গণহত্যা’ চলছে এবং পশ্চিম তীরে প্যালেস্টাইনিদের ওপর আক্রমণ ও অবৈধ বসতি স্থাপনের অভিযোগ উঠছে, তখন এই সফর প্যালেস্টাইনের মানুষের সঙ্গে চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা। বামেদের দাবি, মোদীর এই উপস্থিতি আদতে নেতানিয়াহুর ‘খুনি’ সরকারকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বৈধতা দিচ্ছে। সিপিআই(এম) নেতা এম.এ. বেবি একে ভারতের দীর্ঘদিনের সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী ঐতিহ্যের পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়েছেন। কংগ্রেসও মোদীর এই পদক্ষেপকে ‘নৈতিক কাপুরুষতা’ বলে আক্রমণ শানিয়েছে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদী এই সফরকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে মজবুত করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। সফরের প্রথম দিনেই তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন। এরপর ভারতের কোনও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো ইজরায়েলি সংসদ ‘নেসেট’-এ (Knesset) ভাষণ দেবেন তিনি। কৃষি, প্রযুক্তি, জল ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে এই সফরে। বিশেষ করে ইজরায়েলের ‘আয়রণ ডোম’ প্রযুক্তির অংশ ভারতের ‘সুদর্শন চক্র’ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমে ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
বামেদের অভিযোগ, ভারত এখন পুরোপুরি আমেরিকা-ইজরায়েল অক্ষের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। গাজায় যুদ্ধবিরতির মাঝেও কেন এই সফর, তা নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। তবে দিল্লির দাবি, ভারত তার নিজের জাতীয় স্বার্থ এবং পশ্চিম এশিয়ায় কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রেখেই এই সফর করছে। সব মিলিয়ে, মোদীর ইজরায়েল সফর এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।