১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের ভোট গায়েব? বিস্ফোরক মমতা, গণতন্ত্র বাঁচাতে সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রী!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) নিয়ে এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ভবানীপুরে এক অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এবং গোপনে রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে। এই বিশাল সংখ্যক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রচেষ্টাকে ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রথমে শোনা গিয়েছিল ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা ‘লজিস্টিক ডিসক্রিপেন্সি’-র অজুহাতে আরও প্রায় ৮০ লক্ষ নাম সরানোর প্রক্রিয়া চলছে। মমতার অংক অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তিদের নাম বাদ দিলেও প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ বৈধ ভোটারের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট জানান, “যাঁদের সমস্ত নথিপত্র বৈধ এবং ভেরিফিকেশন হয়ে গিয়েছে, তাঁদের নামও তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে। এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক।” এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় তিনি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানান।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে বার্তা দেন। তিনি বলেন, কে কোন দলের বা কোন ধর্মের (হিন্দু, মুসলিম, শিখ, জৈন বা খ্রিস্টান), সেটা বড় কথা নয়; বড় কথা হলো তাঁদের নাগরিক অধিকার। আগামী ২৮ তারিখ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর বহু মানুষ নিজেদের নাম না দেখে দুশ্চিন্তায় পড়বেন— এই আশঙ্কায় তিনি আগেভাগেই সরব হয়েছেন।

ভোটের রাজনীতির বাইরেও এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে মানবিক রূপে দেখা যায়। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো পরিবারের ২১ জন সদস্যের হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি। এছাড়াও জৈন সম্প্রদায়ের জন্য মন্দির নির্মাণে জমি সহায়তার আশ্বাস এবং আগামী ২ মার্চ নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে এক বিশাল হোলি উৎসবের ডাক দেন তিনি। তবে দিনশেষে তাঁর মূল ফোকাস ছিল একটাই— ভোটার তালিকায় কারচুপি রুখে গণতন্ত্র রক্ষা করা।